সংবাদ সম্মেলনে কাদের

গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অভিযান জোরদার হচ্ছে

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:২৫ এএম

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গণপরিবহনে সরকার নির্ধারিত ভাড়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মানতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সারা দেশে যে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, তা আরও জোরদার করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী গণপরিবহন আগের ভাড়ায় ফিরেছে। গত দুদিনে অনেক পরিবহন শর্ত মেনে পুরনো ভাড়া আদায় করলেও কিছু কিছু পরিবহনের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গসহ কিছু অভিযোগ পাওয়া যায়। যাত্রী ওঠা বা নামার ক্ষেত্রে দরজায় ভিড় এড়াতে হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ সারা দেশে বিভাগীয় পর্যায়ে মোট ৫৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। শর্ত না মেনে গাড়ি চালানোয় ১৯টির বিরুদ্ধে মামলা এবং ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে গত দুদিনে। এছাড়া জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসাররাও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। আমাদের পুলিশবাহিনী যথেষ্ট সহযোগিতা করছে। আজ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।’

শর্ত মেনে ভাড়া আদায় ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানান সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যেসব পরিবহন স্বাস্থ্যবিধি মানছে না সেসব মালিক-শ্রমিক যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ি চালানোয় তৎপর হন সেজন্য জনস্বার্থে তাদের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।’

মাস্ক পরার ক্ষেত্রে যাত্রীদের উদাসীনতার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দেখা যাচ্ছে অনেক যাত্রী মাস্ক পরিধান করছেন না। আমি যাত্রী সাধারণকে ভ্রমণকালে অবহেলা না করে মাস্ক পরিধানের অনুরোধ জানাচ্ছি। আবার চালক-হেলপার মাস্ক না পরে কোনো রকম গলার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন। এটা তো লোক দেখানো মাস্ক পরা। মাস্ক যেভাবে নিয়ম সেভাবে পরতে হবে।’

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আওয়ামী লীগ জনস্বার্থকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আর যাদের উৎস জনগণ নয়, বন্দুকের নল; তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। বারবার আন্দোলন-নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়ায় এটা প্রমাণ করে বিএনপি জনস্বার্থ সুরক্ষায় অভ্যস্ত নয়। শেখ হাসিনার কাছে দেশ ও জনগণের স্বার্থ সবার আগে। যারা দেশ বিকিয়ে দিয়ে স্বাধীনতার চেতনাকে লুণ্ঠিত করে ইতিহাসকে করে বিকৃত, আর হত্যা, ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি করে তাদের মুখে জনস্বার্থের কথা শোভা পায় না। জনগণও তা বিশ্বাস করে না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ক্যারিশমার কথা বলেন! বিএনপির ক্যারিশমা পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন। হাওয়া ভবনের নামে লুটতরাজের খোয়াব ভবন। এটাই তাদের ক্যারিশমাটিক লিডারশিপের নমুনা। ২১ আগস্ট ঘটিয়ে জজ মিয়া নাটক সাজানো তাদের আরেক ক্যারিশমা। যারা ভারতে গিয়ে গঙ্গার পানি চুক্তির কথা ভুলে যান। নরেন্দ্র মোদির বিজয়ের খবরে ভারতীয় দূতাবাসের গেটে ছুটির দিনে ফুল ও মিষ্টি নিয়ে কারা দাঁড়িয়েছিল এদেশের মানুষ ভালো করেই জানে।’

তিনি বলেন, ‘২১ বছর প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক তৈরি করে তারা কিছুই আদায় করতে পারেনি। শেখ হাসিনা দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সীমান্ত সমস্যা, ছিটমহল সমস্যা, সমুদ্র বিজয় করেছেন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে একটি দেশবিরোধী বিদেশি শক্তির প্রতিভূ ছিল। এ দেশের যত অর্জন সবকিছু শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের মাধ্যমে হয়েছে।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত