বুড়িগঙ্গায় ওয়াটার বাস বেকার হাজারো মাঝি

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৫৫ এএম

গত ২৮ আগস্ট রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীতে চালু হয়েছে বিআইডব্লিউটিএর ওয়াটার বাস। মাঝিদের দাবি, এক সপ্তাহ না পেরোতেই বিআইডব্লিউটিএ চারটি ঘাট বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বেকার হয়েছে পড়েছেন হাজারো মাঝি। বিকল্প ব্যবস্থা না করে হঠাৎ ওয়াটার বাস চালু করে তাদের পেটে লাথি মারা হয়েছে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

মাঝিরা জানান, সম্প্রতি বুড়িগঙ্গা নদীর তেলঘাট, নাগর মহল ঘাট, সাহেবের ডট ও আলম মার্কেটের ঘাটগুলো বন্ধ করা হয়েছে। এই চার ঘাটে নৌকা চলাচল করে তিন হাজারের মতো। এই চার ঘাটের বিপরীতে চালু হয়েছে ছয়টি ওয়াটার বাস। মাঝিদের অভিযোগ, ওয়াটার বাস যখন ঘাটে ভেড়ে, তখন নৌকা রাখার মতো জায়গা পাওয়া যায় না। যার কারণে তারা নৌকায় যাত্রী তুলতে পারেন না।

বুড়িগঙ্গার তেলঘাট থেকে লালকুঠি যাত্রী পারাপার করতেন মো. ওহিযত আলী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি এই ঘাটে এরশাদের আমল থেকে নৌকা চালাই, এহন ঘাট বন্ধ। কই যামু কন? অন্য কাম জানি না আর এক ঘাটের নৌকা অন্য ঘাটে ভিড়তে পারে না, তাই আমাগো ইনকামও নাই। আগে দিন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা ইনকাম হইত কিন্তু আইজ এক টাকাও ইনকাম নাই।’

হাবিব নামে আরেক মাঝি বলেন, ‘তেলঘাট দিয়া ওয়াটার বাস চলে তিনটি আর নাগর মহল ঘাট দিয়া চলে তিনটি। এরাই সব যাত্রী লইয়া যায়, এক বাসেই তো হেরা নিবার পারে ১০০ মানুষ। ঘাটে ওয়াটার বাস খাড়া হইলে আমরা আর কোনো লোক নৌকায় লইতে পারি না। ঘাটে কোনো আর জায়গা থাকে না।’

আবদুল বারেক নামের আরেক মাঝি বলেন, ‘আজ (৩ সেপ্টেম্বর) নতুন কইরা নগর মহল ঘাট বন্ধ হইছে, এই ঘাটে আমি নৌকা চালাইতাম। দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা ইনকাম হইত। এহন কই যামু? স্যারেরা কইল আমরা বয়া কিনলাম এহন বয়া দিয়া কী করুম যদি যাত্রী না থাকে?’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাঝি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘাটের কিছু লোক আছে রাজনীতি করে তারাই বিআইডব্লিউটিএতে থাইক্যা দুই হাজার টাকা কইরা এই বাস ভাড়া আইনা আমাগো প্যাটে লাথি দিল। তারাই আবার আমাগো হুমকি দেয় যে এই ঘাটে নৌকা ভিড়াইলে আমাগো মারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘাটে নৌকা ছাড়া কোনো গতি নাই। কী কইরা খামু আমরা, কী কইরা চলব আমাগো পরিবার।’

জাহিদ নামে আরেক মাঝি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাগো নৌকা ছাড়া কোনো গতি নাই, এই বয়সে কই যামু, কী করমু। সেই ছোটবেলা থেকে নৌকা চালাই আর তো অন্য কামও পাই না।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িতে আমার বউসহ আরও চার পোলা আছে তাদের লইয়া কই যামু।’ এ সময় তিনি সরকারের কাছে ঘাট খুলে নৌকা চলাচল করতে দেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা কোনো ঘাট বন্ধ করিনি। দুর্ঘটনা এড়াতে আমরা ঘাট স্থানান্তরিত করিছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কারও ব্যবসা বন্ধ করিনি, এটি ওপেন মার্কেট, যাত্রীরা চাইলে যেকোনোভাবে নদী পারাপার হতে পারেন। হোক সেটা ওয়াটার বাস কিংবা নৌকা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত