পাঁচ দিনেও শুরু হয়নি ইউএনওর ওপর হামলার বিভাগীয় তদন্ত

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:১৩ পিএম

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর উপর হামলার ঘটনায় ৫ দিনেও তদন্ত শুরু করতে পারেনি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি। 

তবে নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব ভূঞা।

এর আগে গত বুধবার দিবাগত রাতে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর ওপর হামলার বিষয়ে পরদিন বৃহস্পতিবার একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

সেখানে রংপুর বিভাগে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে দিনাজপুরের অতিরিক্ত একজন জেলা প্রশাসক ও পুলিশের পক্ষ থেকে একজনসহ তিনজনের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিভাগীয় কমিশনার।

আজ সোমবার দুপুরে দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ও বিভাগীয় তদন্ত কমিটির সদস্য আসিফ মাহমুদ জানান, ৩ সেপ্টেম্বর রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব ভুঞা মহোদয় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. জাকির হোসেনকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির অপর ২ সদস্যের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির একজন প্রতিনিধি রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ৩ সেপ্টেম্বর ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার উপর হামলার তদন্ত কমিটি গঠনের চিঠি আমি পেয়েছি। কিন্তু কমিটির প্রধান এখন পর্যন্ত তদন্তের ব্যাপারে আমাকে কোনো চিঠি দেননি। তাই তদন্ত কমিটির কাজ শুরু করতে পারিনি।

উল্লেখ্য, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে ইউএনওর সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙে বাসায় ঢুকে ওয়াহিদা ও তার বাবার ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ইউএনওর মাথায় গুরুতর আঘাত এবং তার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে ইউএনওকে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) নিয়ে ভর্তি করা হয়।

এরপর তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকায় আনা হয়। তিনি বর্তমানে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জানতে চাইলে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব ভূঞা দেশ রূপান্তর বলেন, 'ইউএনওর ওপর হামলায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে একটি তদন্ত চলছে। এই তদন্তে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সে জন্য আমাদের দেরি হচ্ছে। তবে তদন্ত যেভাবে হয় সেই নিয়মেই হবে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে হামলার শিকার ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বড় ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। শনিবার (৫সেপ্টেম্বর) মামলার আসামি রং মিস্ত্রি নবীরুল ইসলাম ও সান্টু রায়কেও ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিশির কুমার বসু। 

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নবীরুল ও সান্টু রায়ের রিমান্ড শুরু হয়েছে। এই মামলার প্রধান আসামি আসাদুল ইসলামকে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে ডিবি পুলিশ। বিচারক প্রধান আসামি আসাদুলের ৭দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত