শরীয়তপুরের তিন শ্রমিককে মালয়েশিয়ায় নিয়ে প্রতারণা

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:১৯ এএম

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার তিন শ্রমিককে মালয়েশিয়ায় নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে প্রবাসী এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামের মৃত দ্বীন মোহাম্মদ তালুকদারের ছেলে মালয়েশিয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি প্রবাসী হাবিবুর রহমান রতন তালুকদারের (৫০) বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ওই তিন শ্রমিক।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, পুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুল্লাহ কবিরাজ, সোহাগ ব্যাপারী ও সাইফুল ইসলাম তালুকদার দেশে দিনমজুরের কাজ করতেন। সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করেন তারা। তাদের গ্রামে মালয়েশিয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিবুর রহমান রতন তালুকদারের বাড়ি। হাবিবুল্লাহ, সোহাগ ও সাইফুল পরামর্শের জন্য তার কাছে গেলে ভালো কাজের আশ্বাসে মালয়েশিয়া নেওয়ার প্রস্তাব দেন ওই নেতা। পরে তিনজনে মিলে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন রতন তালুকদারের হাতে।

এরপর ২০১৫ সালে তাদের মালয়েশিয়া নেওয়া হয়। কিন্তু মালয়েশিয়া গিয়ে দেখেন তাদের দেওয়া হয়েছে শিক্ষা ভিসা এবং ওই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ভিসার মেয়াদ না থাকায় মালয়েশিয়া সরকার তাদের গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায়। তারা বিভিন্ন মেয়াদে জেল খাটেন। এ ঘটনায় রতনের বিরুদ্ধে অর্থ মন্ত্রণালয়, সচিবালয় ও ঢাকা গোয়েন্দা বিভাগে তারা অভিযোগ করেন।

হাবিবুল্লাহ কবিরাজ (৫০) বলেন, হাবিবুর রহমান রতন তালুকদার আমাকে বিদেশ নেওয়ার কথা বলে সাড়ে ৩ লাখ টাকা নেন। টাকাগুলো জমি বিক্রি করে ও ঋণ করে জোগাড় করেছি। কিন্তু মালয়েশিয়া পৌঁছে দেখি আমার ভিসার মেয়াদ শেষ। আমরা গরিব ও অশিক্ষিত, ভিসা সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। তাই মালয়েশিয়া গিয়ে কাজ তো করতে পারিইনি, আবার জেলও খেটেছি। মালয়েশিয়া থেকে এসে ভ্যানে করে কাঁচা মাল বিক্রি করি। এখন পর্যন্ত ঋণ পরিশোধ করতে পারিনি। রতন তালুকদার ও তার পরিবারের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তারা বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে।

সোহাগ ব্যাপারী ও সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, রতন তালুকদার আমাদের মালয়েশিয়া নেবেন বলে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়েছেন। প্রফেশনাল ভিসা দেওয়ার কথা। কিন্তু তা দেননি। ভিসার মেয়াদও কম ছিল। তাই জেল খেটেছি। আমাদের দেশে ফিরতে আরও ৮ লাখ টাকা লেগেছে। বিদেশ বিদেশ করে সব হারিয়েছি এবং ঋণে জর্জরিত হয়েছি।

এ ব্যাপারে হাবিবুর রহমান রতন তালুকদারের ভাই ইকবাল তালুকদার বলেন, হাবিবুল্লাহ কবিরাজ ও সাইফুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক ঝগড়া আছে। আমার ভাই রতন তালুকদারকে হেনস্তা করার জন্য ঢাকার বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগও করেছে তারা। যা মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে।

নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে রতন তালুকদারের ভাই ইকবাল তালুকদারের সঙ্গে কথা বলেছি। তবে তিনি এ ব্যাপারে কোনো সাড়া দেননি।

ভেদরগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আমিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানি। ঢাকায় অনেক দপ্তরে রতন তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তারা। এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর-আল-নাসীফ বলেন, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত