স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সেই বহুল আলোচিত হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা (সাময়িক বরখাস্ত) আবজাল হোসেনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার কারাগার থেকে বিশেষ নিরাপত্তায় তাকে সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে আনার পর উপ-পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদ করেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, পরে রাতে তাকে রাখা হয় রমনা থানা হাজতে।
গত বছর ২৭ জুন দুদকের উপ-পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ অবৈধ সম্পদ অর্জন, মুদ্রা পাচার এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা দুটি করেন। মামলা দুটিতে আবজাল দম্পতির বিরুদ্ধে ৩৬ কোটি ৩০ লাখ ৬১ হাজার ৪৯৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে ২৮৪ কোটি ৫১ লাখ ১৩ হাজার ২০৭ টাকা পাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ পৃথক দুই মামলায় সাত দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেন।
গত ২৬ আগস্ট আবজাল হোসেন আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। সেদিন বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন। ওই দিনই দুই মামলায় দুদক আবজালের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে। বিচারক রিমান্ড শুনানির জন্য ২ সেপ্টেম্বর দিন রেখেছিলেন। মামলা দুটির মধ্যে একটিতে আবজাল হোসেন একা এবং অন্যটিতে তার স্ত্রী রুবিনা খানম যৌথভাবে আসামি।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আবজাল জানিয়েছেন দুদকের সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার পর তিনি গ্রেপ্তারের ভয়ে পদ্মার চরে আত্মগোপন করেছিলেন। তার স্ত্রী সন্তানরাও আত্মগোপনে ছিল। কিন্তু পদ্মার চরের কোথায় কীভাবে ছিলেন আবজাল সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেননি।
তবে দুদক সচিব দিলওয়ার বখত গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালতের আদেশে রিমান্ড পাওয়ার পর আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছি। তিনি এত দিন কোথায় আত্মগোপনে ছিলেন, তার স্ত্রী ও দুদকের মামলার আসামি রুবিনা ইসলাম কোথায় এসব বিষয়ে জানতে চেয়েছি।’ সচিব আরও বলেন, ‘আবজালের স্ত্রী রুবিনা কোথায় আছে সেটা জানা ও রুবিনাকে গ্রেপ্তারের জন্য দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।’
গত বছরের জানুয়ারিতে আবজালের সম্পদ বিবরণী চায় দুদক। তিনি কমিশনে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। গত ১০ জানুয়ারি আবজালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। রুবিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৭ জানুয়ারি হাজির হতে বলা হলে তিনি সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবজালের অঢেল সম্পদের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার তিনি আত্মগোপন করেন। ওইসময় তিনি অস্ট্রেলিয়ায় আত্মগোপন করেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়। যদিও দুদক বা ইমিগ্রেশন কর্র্তৃপক্ষ তার দেশ ছাড়ার বিষয়টি স্বীকার করেনি। তার অবস্থান জানতে চেয়ে গত বছরের ১৩ মার্চ ইমিগ্রেশন কর্র্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় দুদক।
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার পদ থেকে গত ১৪ জানুয়ারি সাময়িক বরখাস্ত করা হয় আবজালকে। তার স্ত্রী রুবিনা খানম ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার স্টেনোগ্রাফার। ২০০০ সালে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে ব্যবসা শুরু করেন তিনি।
