করোনা রোগীর বুকের এক্স-রে ও সিটিস্ক্যান

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:২৬ এএম

এক্স-রে

করোনায় আক্রান্ত রোগীদের মৃদু উপসর্গের ক্ষেত্রে বুকের এক্স-রেতে সাধারণত নরমৃাল পাওয়া যায়। হংকংয়ে ৬৪ জন করোনা রোগীর ওপর গবেষণা করে দেখা যায়, ২০ শতাংশ রোগীর বুকের এক্স-রে পুরো সময় নরমাল ছিল।

বুকের এক্স-রেতে সাধারণত consodilation, Ground Glass Opacities এর ছবি পাওয়া যায়। এগুলো দুই ফুসফুসের বহিরাংশে (Periphery) এবং সাধারণত নিচের দিকে বেশি থাকে। তবে বুকের এক্স-রের এসব অস্বাভাবিকতা রোগের সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। তবে উপসর্গ শুরুর পর ১০-১২তম দিনে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।

বুকের সিটিস্ক্যান

বুকের সিটিস্ক্যান বুকের এক্স-রের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল। সিটিস্ক্যান থেকে প্রাপ্ত অনেকগুলো অস্বাভাবিকতা সামগ্রিকভাবে করোনা সংক্রমণ নির্দেশ করে। তবে প্রাপ্ত অস্বাভাবিকতার কোনো নির্দিষ্ট একটি এককভাবে করোনা সংক্রমণ নির্দেশ করে না। যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ অব রেডিওলজি সিটিস্ক্যানকে কভিড-১৯ রোগের স্ক্রিনিং কিংবা ডায়াগনোসিসে ব্যবহার করতে নিরুৎসাহিত করে। তবে এটিকে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার শুরু এবং উন্নতি-অবনতি দেখার জন্য ব্যবহার করার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করে এবং তারা সিটিস্ক্যানের অস্বাভাবিকতাকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন- Typical, Indetermine, Atypical এক্স-রের মতো সিটিস্ক্যানের অস্বাভাবিকতাও দুই ফুসফুসের বহিরাংশে (Periphery) এবং সাধারণত নিচের দিকে বেশি থাকে। তবে উপরিউক্ত অস্বাভাবিকতাসমূহ যে শুধু করোনাতেই পাওয়া যায়, এমন নয়।

উহানে ১০১৪ জন রোগী যাদের RT-PCR & CT Scan করা হয়, তাদের ওপর করা সমীক্ষায় RT-PCR কে রেফারেন্স বা স্ট্যান্ডার্ড ধরে সিটিস্ক্যানকে তুলনা করলে দেখা যায় এটি ৯৭ শতাংশ সেনসিটিভ কিন্তু মাত্র ২৫ শতাংশ স্পেসিফিক। স্পেসিফিক সিটি মাত্র ২৫ শতাংশ হওয়ার অন্যতম কারণ একই ধরনের উপাত্ত অন্য কারণেও পাওয়া যেতে পারে।

বুকের এক্স-রের মতো, উপসর্গ শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই বুকের সিটিস্ক্যান স্বাভাবিক হতে পারে। অসুস্থতার সময়ে সিটিস্ক্যানে উপাত্তসমূহ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে থাকে। তবে লক্ষণ শুরুর আগে এবং নাকের ও গলার নমুনা থেকে ভাইরাল আরএনএ শনাক্তের আগেও রোগীদের ক্ষেত্রে বুকের সিটিস্ক্যানে অস্বাভাবিকতা চিহ্নিত করা গেছে। তবে রোগ থেকে মুক্তির পরও এক্স-রে এবং সিটিস্ক্যানের অস্বাভাবিকতা ঠিক হতে সময় লাগে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত