কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে এক নারী গ্রাম পুলিশকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলা তুলে নিতে বাদীকে (ভুক্তভোগী) হত্যার হুমকি দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় বাদী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। গত ১১ ফেব্রুয়ারি উপজেলার শ্যামপুরপাড়া গ্রামের মেম্বার বাক্কার মিয়া (৪৪) ও তার সহযোগী স্বপন মিয়ার নামে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার মাইজচর ইউনিয়নের শ্যামপুরপাড়ায় গ্রাম পুলিশে কর্মরত এক নারী চাকরির সুবাধে তার বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাক্কার মিয়া সহযোগী স্বপন মিয়াকে নিয়ে কৌশলে দরজা খুলে তাদের ঘরে ঢোকে। এ সময় গ্রাম পুলিশের বৃদ্ধ মাকে হাত-পা বেঁধে তার সামনেই তাকে ধর্ষণ করে। পরে ভুক্তভোগী বাজিতপুর থানায় গেলে ওসি মামলা না নিয়ে আদালতে মামলার পরামর্শ দেন। ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ বাক্কার ও স্বপনকে আসামি করে মামলা করেন। করোনাভাইরাসের কারণে আদালত বন্ধ থাকায় মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকে। গত ২৬ আগস্ট আদালতের বিচারক মো. সোলায়মান খান মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর থেকে আসামিরা মামলা তুলে নিতে প্রায়ই হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী ওই নারী গ্রাম পুলিশ সদস্য। ভুক্তভোগী জানান, আসামিরা তাকে ও তার পরিবারকে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ব্যাপারে বাজিতপুর থানার ওসি মো. সুলতান মিয়া জানান, আসামিদের ধরতে পুলিশ সব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করি স্বল্প সময়ের মধ্যে তারা গ্রেপ্তার হবে।
