সিদ্ধান্ত গ্রহণে রোহিঙ্গাদের অংশ চায় অ্যামনেস্টি

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৫১ এএম

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশীদারত্ব না থাকায় মানবাধিকার ক্ষুণ্র হচ্ছে বলে মনে করছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, রোহিঙ্গাদের জীবনে প্রভাব ফেলে এমন যেকোনো সিদ্ধান্তে তাদের অংশগ্রহণ ও নিজেদের কথা বলার অধিকার থাকা আবশ্যক। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এসব কথা জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

তিন শতাধিক রোহিঙ্গা ভাসানচরে স্থানান্তর প্রসঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, ‘এটি বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি বালুচর। যার বাসযোগ্যতা নিয়ে জাতিসংঘ এখনো তার মূল্যায়ন জানায়নি। দুটি সাক্ষাৎকার থেকে ভাসানচরে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যদের হাতে রোহিঙ্গাদের যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা জানা গেছে।’ বাংলাদেশ সরকারকে এই অভিযোগের পরিপূর্ণ ও যথাযথ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের থাকা, খাওয়া ও চিকিৎসার দুর্বল ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এভাবে দ্বীপটিতে দীর্ঘ সময় রোহিঙ্গাদের আটকে রাখা নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির ৯ ও ১২নং ধারার লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যক্তির কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় তার আবাসস্থল নির্ধারণের স্বাধীনতা আছে।’

বিবৃতিতে সংস্থাটির মহাসচিবের কার্যালয়ের পরিচালক ডেভিড গ্রিফিথস বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের উচিত ভাসানচর থেকে সব রোহিঙ্গাকে নিরাপদে কক্সবাজারের ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনা এবং ভাসানচরে তাদের স্থানান্তরের যেকোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে কোনো ধরনের জোর ছাড়াই তাদের সঙ্গে পরামর্শ করা।’

বাংলাদেশি মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’কে উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ২০২০ সালের জুলাই পর্যন্ত শতাধিক রোহিঙ্গা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এখন পর্যন্ত সেসব ঘটনার একটিরও তদন্ত হয়নি। সন্দেহভাজন কাউকে বিচারের আওতায়ও আনা হয়নি।’

কক্সবাজারে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার পাঁচ রোহিঙ্গার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে জানিয়ে অ্যামনেস্টি বলেছে, “প্রত্যেকটি ঘটনার ক্ষেত্রে কাকতালীয়ভাবে একই রকম বক্তব্য পাওয়া গেছে, যেখানে ভুক্তভোগীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।”

রোহিঙ্গাদের চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ বছর ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ছয়জন রোহিঙ্গা করোনায় মারা গেছেন এবং ৮৮ জন সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। রোহিঙ্গা নারীরা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কাছে মানব পাচার, যৌন হয়রানি ও বৈষম্যের কথা তুলে ধরেছেন বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

ডেভিড গ্রিফিথস বলেন, ‘কক্সবাজারে রোহিঙ্গা অধিকাংশই নারী ও শিশু নানা রকম হয়রানি ও বৈষম্যের হুমকির সম্মুখীন। কর্র্তৃপক্ষ ও সহায়তা দানকারী সংস্থাগুলোর উচিত সব ধরনের পাচার, যৌন নির্যাতন ও বৈষম্যের অভিযোগের তদন্ত করা।’ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা প্রসঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, ক্যাম্পের কিছু জায়গায় ইন্টারনেটের গতি বাড়লেও এখনো সব জায়গায় তা পাওয়া যাচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত