বগুড়ায় প্রায় পাঁচ দশকের পুরনো মধুবন সিনেমা হলটি সিনেপ্লেক্স রূপে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও সরকারের সিনেমা হল খুলে দেওয়ার ঘোষণার দুই সপ্তাহের মধ্যেই যাত্রা শুরু করবে ‘মধুবন সিনেপ্লেক্স’।
১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সিনেমা হলটি দর্শক উপযোগী করতে ২০১৭ সালে সংস্কারের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। সংস্কার কাজ শেষে ৩৪০ আসনবিশিষ্ট সিনেপ্লেক্সটি এখন চালুর অপেক্ষায় রয়েছে।
সিনেপ্লেক্সটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা সায়েখউজ্জামান গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে সব সিনেমা হলই এখন বন্ধ আছে। সরকার সিনেমা হল চালুর ঘোষণা দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই হলটি দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। আমাদের দিক থেকে সেভাবেই প্রস্তুতি রয়েছে। সরকার সিনেমা হল চালুর পর কিছু কাগজপত্রের প্রক্রিয়া শেষ করতে দুই সপ্তাহের মতো সময় লাগবে। এরপরই দর্শক এখানে এসে সিনেমা দেখতে পারবেন।’
এর আগে মধুবন সিনেমা হলে ৮৮৭ জন একসঙ্গে বসে সিনেমা দেখতে পারত। এখন অত্যাধুনিক সিনেপ্লেক্সে ৩৪০ জন দর্শক একসঙ্গে বসে সিনেমা দেখতে পারবেন। চেয়ারগুলো আনা হয়েছে চীন থেকে। ডিএলপি সিনেমা প্রজেক্টর, মুম্বাই থেকে আনা গ্যালাইট কোম্পানির স্ক্রিন। হলজুড়ে থাকছে শীততাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, দর্শকদের জন্য পার্কিং সুবিধার পাশাপাশি থাকছে ফুডকোর্ট।
আপাতত একটিই স্ক্রিন থাকছে; আগামীতে স্ক্রিনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সায়েখউজ্জামান। তিনি বলেন, ‘হলিউডের মুভি চালানোর উপযোগী করে সিনেপ্লেক্সটি করা হয়েছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের পাশাপাশি হলিউডের মুভি দেখানো হবে।’
১৯৬৯ সালে সিনেমা হলটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন হলের প্রতিষ্ঠাতা লে.কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) আশরাফুজ্জামান ইউনুস। ১৯৭৪ সালে হলটি চালু হয়। ২০১৩ সালে উত্তরাধিকার সূত্রে তার ছেলে রোকনুজ্জামান মো. ইউনুসের হাতে হলের মালিকানা আসে। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির একজন সদস্য। রোকনুজ্জামানের সঙ্গে তার দুই ছেলে সায়েখউজ্জামান ও আকিবুজ্জামান বর্তমানের হলের দেখভালের দায়িত্বে আছেন।
