বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বী (২২) হত্যা মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ৫ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর ধার্য করেছে আদালত। গতকাল রবিবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ তারিখ ধার্য করে আদেশ দেন। এদিন আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ আদালতে হাজির হন।
তিনি জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ায় তার সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। এ সময়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর আবেদন করলে তা মঞ্জুর করা হয়। সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার এবং সরকারি ছুটি বাদে নিয়মিত মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ চলবে। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মামলাটিতে ২৫ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।
আসামিরা হলো বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতামিম ফুয়াদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. অনিক সরকার ওরফে অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্ত, আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা, উপ-সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, গ্রন্থ ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ইশতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, কর্মী মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, মো. মুজাহিদুর রহমান, মো. মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, শামীম বিল্লাহ, মুয়াজ ওরফে আবু হুরায়রা, এএসএম নাজমুস সাদাত, আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম, এসএম মাহমুদ সেতু, মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান ম-ল ওরফে জিসান, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম ও মুজতবা রাফিদ। আসামিদের মধ্যে প্রথম ২২ জন কারাগারে। শেষের তিনজন পলাতক। আর আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। কারাগারে থাকা ২২ আসামিকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয়।
গত বছর ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় আবরার ফাহাদকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওই রাতে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরার ফাহাদকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ।
গত ১৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ওয়াহিদুজ্জামান ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
