রাজধানীর দক্ষিণখান কাওলা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার নাম দিলসাত নাহার আঁচল (১৯)। গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টায় অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আঁচল সাভারের জাতীয় বস্ত্র ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (নিটার) ফ্যাশন ডিজাইন টেকনোলজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা দেলোয়ার হোসেন পেশায় রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী, মা স্কুলশিক্ষিকা। এ দম্পতির দুই মেয়ের মধ্যে আঁচল ছোট।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাজধানীর বিএফ শাহীন কলেজে পড়াকালীন সহপাঠী সাফখাত হোসেনের সঙ্গে আঁচলের প্রেমের সম্পর্ক হয়। ওই সম্পর্কের বিষয়ে পরিবারের অনেকেই জানতেন। সম্প্রতি তাদের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে ঝামেলা চলছিল। এরই জের ধরে গত বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে প্রেমিক সাফখাতের মোবাইল ফোনে ভিডিও কল দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে থাকেন। এ সময় তার প্রেমিক সাফখাত বিষয়টি আঁচলের বড় বোনকে ফোন করে জানানোর চেষ্টা করেন।
আঁচলের মামা কাওছার রূপক দেশ রূপান্তরকে বলেন, একই বাসার পাশাপাশি রুমে থাকত দুই ভাগ্নি। বৃহস্পতিবার বড় ভাগ্নিকে দেখার জন্য লোকজন এসেছিল। যার কারণে রাতে খাওয়াদাওয়া শেষ করে ক্লান্ত অবস্থায় যে যার রুমে বিশ্রামে চলে যায়। মোবাইল ফোনের রিংটোন সাইলেন্ট করে ঘুমিয়ে যায় বড় ভাগ্নি। কিন্তু ছোট ভাগ্নি না ঘুমিয়ে তার প্রেমিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিল। এরই একপর্যায়ে সে এমন দুর্ঘটনা ঘটায়। যার কারণে বড় ভাগ্নি কিছুই বুঝতে পারেনি।
রূপক আরও বলেন, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা, মোবাইল ফোনের কল, ভিডিও বিশ্লেষণ করে বুঝতে পেরেছি, ছোট ভাগ্নি ও তার প্রেমিকের মধ্যে কোনো সমস্যা তৈরি হয়েছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে সে প্রেমিকের মোবাইলে ভিডিও কল দিয়ে আত্মহত্যার মতো দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। যদিও ছেলেটি আঁচলের বড় বোনকে সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু বড় ভাগ্নি ঘুমিয়ে থাকার কারণে এ দুর্ঘটনা রোধ করা যায়নি।
আরেক স্বজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আঁচল ও তার বড় বোনের একটি পোষা বিড়াল ছিল। সেই বিড়ালটি বড় বোনের সঙ্গে ঘুমালেও মূত্র বা মল ত্যাগের কাজ সারত ছোট বোনের রুমে। রাত ২টা থেকে বিড়ালটি সেই রুমে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু রুম বন্ধ থাকায় বারবার আঁচলের বড় বোনকে বিরক্ত করতে থাকে। এরই একপর্যায়ে রাত আড়াইটার দিকে সে বিড়ালের বিরক্তিতে ঘুম থেকে জেগে উঠে তার ছোট বোনের রুমে যাওয়ার সময় দরজা বন্ধ পান। রুম বন্ধ পেয়ে কল করার জন্য মোবাইল ফোন হাতে নিলে দেখতে পান, তার ফোনে আঁচলের ঝুলন্ত ছবি এসেছে। এছাড়া একাধিকবার কল করেছিল আঁচলের বন্ধু। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিকল্প চাবি দিয়ে রুম খুলে ছোট বোনকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করতে থাকেন। পরে পরিবার ও প্রতিবেশীরা তাকে ওই অবস্থায় নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান।
দক্ষিণখান থানার এসআই তরিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যার আগে সে তার ছেলে বন্ধুর মোবাইল ফোনে ভিডিও কল দিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। উত্তরা ফায়দাবাদ এলাকায় কবরস্থানেই মরদেহ দাফন করা হয়েছে।
