বীমা খাতের আধিপত্যে কোণঠাসা পুঁজিবাজার

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:১৭ এএম

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) খাতওয়ারি বাজার মূলধনে শীর্ষে রয়েছে ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ ও জ¦ালানি খাত। খাতওয়ারি বাজার মূলধনে সাধারণ বীমা খাতের অবস্থান দশম। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরেই স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনে সাধারণ বীমা খাতের একচেটিয়া প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে। বাজার কারসাজি থেকে শুরু করে সাধারণ বিনিয়োগকারী সবাই বীমা খাতের কোম্পানির শেয়ারে ঝোঁক বাড়িয়েছেন। এতে করে এই খাতের শেয়ারের লেনদেন যেমন বাড়ছে, তেমনি দরও। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে সাধারণ বীমা খাতের বাজার মূলধন দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বীমা খাতের আধিপত্যে লেনদেনে অন্য খাতগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে সূচকে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত চার মাসে প্রায় সব খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে। তবে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে সাধারণ বীমা খাতের। যদিও এই দরবৃদ্ধির নেপথ্যে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বলে স্টক এক্সচেঞ্জকে জানিয়েছে বিভিন্ন বীমা কোম্পানি। চলতি বছরের ৩১ মে ডিএসইতে সাধারণ বীমা খাতের বাজার মূলধন ছিল ৪ হাজার ৮৯ কোটি টাকা। আর গতকাল লেনদেন শেষে খাতটির বাজার মূলধন ৮ হাজার ১৩৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

গত ৩১ মে ডিএসইর মোট লেনদেনের মাত্র ১ শতাংশ ছিল সাধারণ বীমা খাতের। আর গতকাল তা ২৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অবশ্য গত এক সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনের সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ এসেছিল এই খাতটি থেকে। আর জীবন বীমার লেনদেনসহ হিসাব করলে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ডিএসইর মোট লেনদেনের ৪৫ শতাংশ ছিল পুরো বীমা খাতের, গতকাল তা ছিল ৩১ শতাংশ।

বর্তমানে পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বেশি বাজার মূলধন রয়েছে ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের, ৫৬ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা। গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১২ শতাংশ এসেছে এই খাতটি থেকে। ৫৫ হাজার ১৬২ কোটি টাকা বাজার মূলধন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক খাত। লেনদেনযোগ্য শেয়ার বেশি থাকায় সূচকে সবচেয়ে বেশি প্রভাব এই খাতটির। গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের মাত্র ৬ শতাংশ এসেছে ব্যাংক খাত থেকে। বাজার মূলধনে তৃতীয় অবস্থানে থাকা টেলিকম খাতে গতকাল লেনদেন হয়েছে ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের মাত্র ১ শতাংশ।  লেনদেনের ৬ শতাংশ এসেছে প্রকৌশল খাত থেকে। আর জ¦ালানি থেকে এসেছে ৪ শতাংশ।

বীমা খাতে অস্বাভাবিক ঝোঁক বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা অন্য খাতের শেয়ার বিক্রি করে বীমা খাতে বিনিয়োগ করছেন। এতে করে তুলনামূলক স্বল্প মূলধনী খাতটিতে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। এর ফলে এ খাতের কোনো কোনো শেয়ারের দর গত চার মাসে পাঁচগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। যদিও খাতটির মৌলভিত্তিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। তবে গত বছর বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ বীমা খাতের এজেন্ট কমিশন নির্ধারণ করে দেওয়ায় খাতটির প্রায় সব কোম্পানির আয় বেড়েছে। দরবৃদ্ধির এটি একটি কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও একই আয়ের অন্য কোম্পানির তুলনায় বীমা খাতের শেয়ারের দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত চার মাসে বীমা খাতের দর অস্বাভাবিক হারে বাড়লেও অন্য খাতগুলোর বাজার মূলধন একই হারে বাড়েনি। শুধুমাত্র এনবিএফআই খাতের দর এ সময়ে ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া এ সময়ে বস্ত্র খাত ২৪ শতাংশ, ফার্মাসিউটিক্যালস ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ, সিমেন্ট ১১ শতাংশ, ব্যাংক ২৮ শতাংশ, সিরামিক ১৬ শতাংশ, টেলিকম ৩১ শতাংশ, বিবিধ ১৮ শতাংশ, এনবিএফআই ৪৪ শতাংশ, জ্বালানি ২৬ শতাংশ দর বেড়েছে।

গত চার মাসে ডিএসইর প্রধান সূচকটি বেড়েছে ২২ শতাংশের বেশি। সূচক বাড়াতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে ব্যাংক, এনবিএফআই, জ্বালানি, ফার্মাসিউটিক্যালস ও টেলিকম খাত। এখন বীমা খাতে বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বাড়ায় অন্যান্য খাতের শেয়ারের চাহিদা কমে গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত