সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের দাবি

ওয়াহিদার ওপর হামলায় রবিউলকে ফাঁসানো হয়েছে

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:০৭ এএম

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর ওপর হামলার ঘটনায় ওই অফিসের চতুর্থ শ্রেণির চাকরিচ্যুত কর্মচারী (মালি) রবিউলকে ফাঁসানো হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছে রবিউলের পরিবার। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে রবিউলের পরিবার এ সংবাদ সম্মেলন করে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রবিউলের বড় ভাই রহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাই রবিউল ইসলাম ঘোড়াঘাট উপজেলায় মালি পদে কর্মরত থাকাকালে গত ১১ জানুয়ারি তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। তারপর থেকে আমার ছোট ভাই রবিউল ইসলাম বাড়িতেই অবস্থান করছিল। আমার ছোট ভাই নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে সে এবং আমিসহ অন্যরা ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া মারফত জানতে পারি যে, ঘোড়াঘাট ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর গত ২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে নিজ বাসভবনে সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন। এ ঘটনার সঙ্গে আমার ছোট ভাই রবিউলের কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা নেই।’

রবিউল ইসলামের বড় ভাই বলেন, ‘আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিভিন্নজনের নাম জানতে পারি। যা গোটা দেশবাসী অবগত আছেন। এরই একপর্যায়ে হঠাৎ করে ডিবি পুলিশ আমার ছোট ভাই রবিউল ইসলামকে আমাদের বাড়ি হতে গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ধরে নিয়ে যাওয়ার তিন দিন পর মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি যে, ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবাকে মারার মামলায় ডিবি পুলিশ আমার ভাইকে আটক করেছে। পরে রিমান্ডে নিয়ে চাপ সৃষ্টি করে সে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তারা বাবাকে একাই মেরেছে মর্মে তার দ্বারা আদালতে জবানবন্দি প্রদানে বাধ্য করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে আমার ছোট ভাই এ ঘটনার বিষয়ে কোনো কিছুই জানে না এবং সে এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিল না। সন্ত্রাসীদের বাঁচানোর অসৎ উদ্দেশ্যে আমার ছোট ভাই রবিউলকে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমরা এ হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক মামলার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীর বিচার কামনা করছি।’

সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নে রবিউলের বড় ভাই রহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ করে ডিবি পুলিশ এসে আমার ভাইকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। এরপর আমার ভাইকে ছয় দিন রিমান্ডে নেওয়ার পর কোনো তথ্য পায়নি। প্রথম ছয় দিনে আমার ভাইয়ের কাছে কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পায়নি। পরে আবার তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে আমার ভাইকে অন্যায় অত্যাচার করে। আমার ভাইকে চাপ প্রয়োগ করে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। আমাদের কোনো টাকাপয়সা নেই, আমরা কারও কাছে যাব এই উপায়ও আমাদের নেই। ওইদিন রাতে আমার ভাইসহ একসঙ্গে ভাত খেয়েছি। পরদিন সকাল ৬টার দিকে আমার ভাইসহ জমিতে ঘাস তুলতে গিয়েছি।’

রহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমার ভাইয়ের সঙ্গে এখন পর্যন্ত দেখা করতে পারিনি। মোবাইল ফোনেও কথা বলতে দেয়নি। কী অবস্থায় আছে, কেমন আছে সেটাও আমরা জানি না। আমার ভাই রবিউলের ঘর থেকে তার ব্যবহৃত কোরআন শরিফ বাদে সব কাগজপত্র ফেলে দিয়েছে। আমার ভাইয়ের সব কাপড় নিয়ে গেছে। একটা রড, একটা বাঁশের লাঠি, প্যান্ট, শার্ট নিয়ে গেছে। যখন পুলিশ ঘরে ঢুকেছিল তখন আমাদের কাউকেই ঘরে ঢুকতে দেয়নি। ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলায় ঘটনায় আরও যাদের আটক করা হয়েছে তারা কোথায়? আমার ভাইকে চাপ প্রয়োগ করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়েছে।’

রবিউল ইসলামের আরেক বড় ভাই আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমার ভাইসহ ওইদিন রাতে একসঙ্গে টিভি দেখেছি। আমার ভাই বাইরে থাকে না। তার শ্বশুরবাড়িতেও সে থাকে না। আমার ভাইকে পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক জবানবন্দি নিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করছি।’

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় প্রথমে র‌্যাব যুবলীগের নেতা আসাদুল, সান্টু, নবীরুলকে আটক করে চুরির উদ্দেশ্যে ইউএনওর বাসায় হামলা চালায় বলে দাবি করেছিল র‌্যাব। পরে পুলিশ ওই অফিসের চাকরিচ্যুত মালি রবিউলকে আটক করে হামলার দায় স্বীকারের কথা জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রবিউল ইসলামের মা রহিমা খাতুন, চাচা এমাজ উদ্দিন, চাচি সুরাতন নেছা, চাচা ওয়াজ উদ্দিন, বড় ভাই আজিজুর, রহিদুল ও চাচাতো ভাই রশিদুল ইসলামসহ অনেকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত