ইবি ছাত্রীকে নির্যাতন করে হত্যা!

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৫৯ এএম

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় উলফাত আরা তিন্নি (২৫) নামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, ওই ছাত্রীর বড় বোনের সাবেক স্বামী দলবল নিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করেছে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শৈলকুপা উপজেলার শেখপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলীর মেয়ে তিন্নি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে পড়তেন।

তিন্নির খালাতো ভাই মোখলেছুর রহমান জানান, তিন্নির বড় বোন মিন্নির একই গ্রামের নুরুদ্দীন শেখের ছেলে শেখপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী জামিরুল শেখের সঙ্গে বিয়ে হয়। বনিবনা না হওয়ায় বছরখানেক আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়েছে। বিচ্ছেদের কিছুদিন পরই জামিরুল মিন্নিকে আবার ঘরে নিতে চায়। কিন্তু মিন্নি রাজি হননি। এ কারণে জামিরুল ওই পরিবারের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় পরিবারটি একপ্রকার অসহায় হয়ে পড়ে।

মোখলেছুর আরও জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে জামিরুল তিন্নিদের বাড়িতে লোকজন নিয়ে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। দুই ঘণ্টা পর সে আবার ওই বাড়িতে গিয়ে তিন্নির ওপর নির্যাতন চালায় এবং তাকে হত্যা করে। পরে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে যায়। কিন্তু তিন্নির পা খাটে লাগানো ছিল।

মিন্নি বলেন, ‘বাড়ির দোতলায় তিন্নির সঙ্গে জামিরুল এমন কী আচরণ করেছে যে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে তরতাজা বোনের লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখলাম।’ তার অভিযোগ এটা পরিকল্পিত হত্যা। তিন্নির মা হালিমা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে খুবই মেধাবী। বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া থেকে এক বান্ধবীর বিয়ের অনুষ্ঠান সেরে ফেরার পথে জামিরুল তিন্নিকে হুমকি দেয়। সে তাকে ক্ষতি করবে বলে জানায়।’ তিন্নিকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি তার।

এ বিষয়ে শৈলকুপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম জানান, তিন্নির মৃত্যুটি রহস্যজনক। তার সঙ্গে এমন কিছু করা হয়েছে যে তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। ডাক্তারি পরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি বলেন, ‘তিন্নি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। একজন মেধাবী ছাত্রী এমনভাবে মৃত্যুবরণ করতে পারেন না। আমরা বিষয়টির ওপর কঠোর নজর রাখছি। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। জামিরুল নজরদারিতে রয়েছেন। তিনি দোষী হলে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’ আরিফুল আরও বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে তিন্নির লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত