বেলাবোর স্কুল ছাত্র সোহরাব খুন

ট্রাকচালক সেজে ৩ বছর আত্মগোপনে হত্যা মামলার আসামি

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২০, ০১:৪১ এএম

নরসিংদীর বেলাবোর স্কুল ছাত্র সোহরাব খুনের মামলার আসামি ট্রাকচালক সেজে ৩ বছর আত্মগোপনে থাকার অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছে।

পারিবারিক বিরোধের জেরে বেলাব ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য রিনা বেগমের ছেলেকে স্কুল ছাত্র সোহরাবকে হত্যার অভিযোগে কবির মিয়া সিআইডির হাতে ধরা পড়েছে।

শনিবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। গাজীপুরের শ্রীপুর থানার মাওনা বহেরার চালা এলাকা থেকে তাকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির ডিআইজি মো. মাঈনুল হাসান বলেন, গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য প্রায় ৩ বছর আত্মগোপনে ছিল কবির। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা, একটি ডাকাতিসহ বেশ কিছু মামলা আছে।

ইউপি সদস্য রিনা বেগমের ছেলে স্কুলছাত্র সোহরাবকে গলা কেটে হত্যার অন্যতম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নকারী হিসেবে প্রধান সন্দেহভাজন কবির। ইতোমধ্যে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। কবির বেলাব থানার খামারেরচর গ্রামের আবদুল হাইয়ের ছেলে।

মাঈনুল হাসান আরও বলেন, কবিরের সঙ্গে রিনা বেগমের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে রিনা বেগমের ছেলে ফরিদকে হত্যার পরিকল্পনা করে কবির। এ ঘটনা বুঝতে পেরে রিনা তার ছেলে ফরিদকে কক্সবাজার পাঠিয়ে দেন। কক্সবাজার যাওয়ার আগে অপর আসামি বাচ্চু মিয়া ও ভিকটিম সোহরাব ওরফে মুসা একই কক্ষে থাকত।

আসামি শিপন ও বাচ্চুকে কবির প্রস্তাব দেয় সোহরাবকে কৌশলে নিয়ে এসে তাদের কাছে তুলে দিতে। বাচ্চু জানায়, সোহরাব কক্সবাজারে অবস্থান করছে। তখন কবির রিনার যেকোনো ছেলেকে ডেকে আনার প্রস্তাব দেয়। বাচ্চু তার এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আসামি শিপন ও কবির ভয় দেখায় বাচ্চুকে এবং বেশ কিছু টাকা দেয়।

সোহরাব কক্সবাজার থেকে বাড়ি আসলে ২০১৭ সালে ১২ অক্টোবর রাত ২টার দিকে শিপন ও কবির কৌশলে সোহরাবকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে সোহরাবকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয় বাচ্চু। তখন শিপন ও কবির পেছন থেকে সোহরাবকে জাপটে ধরে মুখে গামছা বেঁধে স্থানীয় কুকুর মারা স্কুলের পেছনে নিয়ে যায়। আসামি শফিক ও মিলন সোহরাবের দুই পায়ে ধরে, আর তুহিন ধরে মাথা, শিপন হাতে ধরে রাখে। প্রথমে শিপন এবং পরে কবির ছুরি দিয়ে গলা কেটে সোহরাবের মৃত্যু নিশ্চিত করে।

সিআইডি কর্মকর্তা আরও বলেন, ওই ঘটনায় নিহত সোহরাবের মা রিনা বেগম বাদী হয়ে কবিরসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে বেলাব থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। বেলাব থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত করছিল। পরে পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে নরসিংদীর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নেয়। পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ  রুবেল শেখ তদন্ত  করে মামলার এজাহারনামীয় আসামি কবিরসহ ৩ জন এবং এজাহারের বাইরে আরও ২ জনসহ মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়। পিবিআইয়ের দেওয়া চার্জশিটের বিরুদ্ধে রিনা বেগমের নারাজির প্রেক্ষিতে আদালত চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেয়। সিআইডি মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তার করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত