আগস্টে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন কমেছে ৩৪%

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২০, ১১:৩৬ পিএম

করোনায় রপ্তানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও দরিদ্রদের সরকারি সহায়তাসহ বিভিন্ন কারণে চলতি বছরের জুলাইতে রেকর্ড লেনদেন হয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। তবে এক মাসের ব্যবধানে ডিজিটাল এ মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ৩৪ শতাংশ কমে গেছে। চলতি জুলাই মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ৬৩ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগস্টে ৪১ হাজার ৪০৩ কোটি টাকায় নেমে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) আগস্ট মাসের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শুরুতে নগদবিহীন লেনদেনে ঝোঁক তৈরি হয়। দুর্যোগকালে গ্রাহকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন আরও জনপ্রিয় করতে বিশেষ ছাড় দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্পে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস, সরকারের সামাজিক সুরক্ষার বিভিন্ন ভাতা ও অনুদান মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রদান করা হয়। এ সময় ঈদকেন্দ্রিক কেনাকাটায় অনেকেই ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবহার করেন।  এসব কারণে জুলাইতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে রেকর্ড লেনদেন হয়েছিল।

লকডাউন শেষে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরু হওয়ায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেনে প্রভাব ফেলে বলে জানা গেছে। এছাড়া রপ্তানিমুখী শিল্পে শ্রমিকদের বেতন-ভাতায় সরকারি প্রণোদনার মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন কমে গেছে। ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে করোনায় সামাজিক সুরক্ষায় সরকারি যে সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, সেটিও এখন কমে গেছে। এসব কারণে আগস্টে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন কমেছে ২১ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা। এ সময়ে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এমএফএস মাধ্যমে আগস্টে মোট ২৬ কোটি ৯৬ লাখ ৯৭ হাজার ৮৭৫টি লেনদেনের মাধ্যমে ৪১ হাজার ৪০৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এ সময়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ নেমে এসেছে ১ হাজার ৩৩৫ কোটি ৬১ লাখ টাকায়, যা আগের মাস জুলাইতে ছিল ২ হাজার ৩২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

সামাজিক সুরক্ষার আওতায় সরকারি আর্থিক সহায়তা কমে যাওয়াই আগস্টে লেনদেনের পরিমাণ কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ। এ সময়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরকারি আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ বা ১ হাজার ৬১ কোটি টাকা কমেছে। জুলাইতে ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষায় সরকারি সহায়তার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা আগস্টে মাত্র ১৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকায় নেমে আসে। এছাড়া এমএফএসের মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বিতরণ আগস্টে ১ হাজার ৬৩ কোটি টাকায় নেমে আসে, যা জুলাইতে ছিল ৪ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ১৫টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত। চলতি জুলাই মাস শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ কোটি ২৯ লাখ ৩৭ হাজারে, যা তার আগের মাসের চেয়ে দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

টানা তিন মাস একবারও লেনদেন করেনি এমন হিসাবকে নিষ্ক্রিয় হিসাব বলে গণ্য করে থাকে এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। লেনদেনের পরিমাণ কমার সঙ্গে সঙ্গে আগস্টে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যাও কমেছে। আগস্টে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা ২১ লাখ ৫ হাজার কমে ৪ কোটি ৬ লাখে দাঁড়িয়েছে, যা জুলাইতে ছিল ৪ কোটি ২৭ লাখ। এ সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৯ হাজার ৪৩০ জনে।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে শুধু অর্থ লেনদেন ছাড়াও বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবা মূল্য পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ রেমিট্যান্স প্রেরণসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হচ্ছে। আগস্টে বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৯০৮ কোটি টাকা। কেনাকাটার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১ হাজার ৬০ কোটি টাকা।

আগস্টে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে টাকা জমা পড়েছে ১১ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। এ সময়ে উত্তোলন করা হয়েছে ১২ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা। যা আগের মাস জুলাইয়ের চেয়ে টাকা জমা পরিমাণ কমেছে ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং উত্তোলন কমেছে ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ। জুলাইয়ে টাকা জমা হয়েছিল ১৭ হাজার ৫৮ কোটি টাকা এবং উত্তোলন করা হয়েছে ১৯ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা।

আগস্ট মাসে এমএফএসে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে ১০৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যা আগের মাসের চেয়ে ৩৮ শতাংশ কম। চলতি বছরের জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আলোচিত সময়ে ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে ১২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। মাসের ব্যবধানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বিতরণ ৭৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত