বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয় আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদনের নথি) হাইকোর্টে এসেছে। গতকাল রবিবার সকালে এ মামলায় বিচারিক আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের সার্টিফায়েড কপিসহ (রায়ের অনুলিপি) যাবতীয় নথি হাইকোর্টে আসে বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদন্ডের রায় কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। নথি আসার পর হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট মামলার পেপারবুক (মামলার যাবতীয় বৃত্তান্ত) প্রস্তুত করে। পেপারবুক প্রস্তুত হলে মামলা শুনানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। তবে কোনো কোনো মামলার ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির সম্মতি সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক তৈরি ও শুনানি হয়। এদিকে মিন্নির মৃত্যুদন্ডের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করতে তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর মামলার রায়ের অনুলিপি ও অন্যান্য নথি নিয়ে গত শনিবার ঢাকায় এসেছেন। খুব দ্রুত মিন্নির পক্ষে আপিল করা হবে জানিয়ে মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না গতকাল সাংবাদিকদের জানান, তারা রায়ের অনুলিপি হাতে পেয়েছেন। নথি পর্যালোচনা করে আপিল করা হবে। আইনের বিধান অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদন্ডের সাজার বিরুদ্ধে সাত দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ছয় আসামিকে দন্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ডের রায় দেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান। দন্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলো রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজী (২৩), আল কাইউম ওরফে রাব্বি আঁকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম ওরফে সিফাত (১৯), রেজওয়ান আলী খান ওরফে টিকটক হৃদয় (২২) ও মো. হাসান (১৯)।
