বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি মৃত্যুদন্ড থেকে খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার তার পক্ষে আইনজীবীরা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদন সম্পর্কিত নথি জমা দেন। চলতি সপ্তাহে হাইকোর্টের এখতিয়ার সম্পন্ন কোনো বেঞ্চে এই আপিল আবেদনটি গ্রহণের জন্য আবেদন করা হবে বলে দেশ রূপান্তরকে জানান মিন্নির অন্যতম আইনজীবী মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম। মোট ৪৫১ পৃষ্ঠার আবেদনে খালাস চেয়ে ২০টি গ্রাউন্ড (যুক্তি) তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মিন্নির প্রধান আইনজীবী জেড আই (জহিরুল ইসলাম) খান পান্না সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিন্নির পক্ষে হাইকোর্টে আপিল ফাইল করেছি। আশা করি যত শিগগির সম্ভব এ মামলার শুনানি হবে, আমরা শুনানি করব। আমরা আশাবাদী, আইনের আলোকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মিন্নি বেকসুর খালাস পাবে।’
রিফাত হত্যা মামলায় বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত গত ৩০ সেপ্টেম্বর মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয়। বরগুনার বিচারিক আদালতের রায়ের পর গত ৪ অক্টোবর মিন্নিসহ ছয় আসামির ডেথ রেফারেন্সসহ (মৃত্যুদন্ড অনুমোদনের নথি) মামলার যাবতীয় নথি হাইকার্টে আসে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। নথি আসার পর হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট মামলার পেপারবুক (মামলার যাবতীয় বৃত্তান্ত) প্রস্তুত করে। পেপারবুক প্রস্তুত হলে মামলা শুনানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। কারাগারে থাকা আসামিরা আপিল ও জেল আপিলের সুযোগ পান।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর রিফাত হত্যা মামলায় মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ৬ আসামিকে দন্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান। গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা জেলা শহরের কলেজ রোডে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে। ওই ঘটনার একটি রোমহর্ষক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১ নম্বর সাক্ষী করা হয় নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকে। কিন্তু কয়েক দিন পর মিন্নির শ্বশুর অভিযোগ করেন, তার পুত্রবধূ মিন্নিও হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত। এরপর ১৬ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। সেদিন রাতেই মিন্নিকে রিফাত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ জানায়, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মিন্নি। তবে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর অভিযোগ করেন, নির্যাতন করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে তার মেয়ের কাছ থেকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে।
