করোনায় মানুষের আয় কমেছে ২০.২৪ শতাংশ

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৫৬ এএম

মহামারী করোনার প্রভাবে দেশে মানুষের মাসিক আয় ২০ দশমিক ২৪ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে ব্যয় কমেছে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। করোনার সময় প্রায় ৫২ দশমিক ৫৮ শতাংশ পরিবার বা খানা কোনো না কোনোভাবে খাদ্যদ্রব্য ভোগের পরিমাণ ২০২০ সালের মার্চের তুলনায় কমিয়েছে। তাদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ পরিবার/খানা মাসিক আয় কমার কারণে খাদ্যদ্রব্য ভোগের পরিমাণ কমিয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) করা জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘কভিড-১৯ বাংলাদেশ : জীবিকার ওপর ধারণা জরিপ ২০২০’ শীর্ষক জরিপের ফল উপস্থাপন করা হয়। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান জরিপের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

জরিপ প্রতিবেদন অনুসারে, মার্চে যেখানে মাসিক আয় ছিল ১৯ হাজার ৪২৫ টাকা, সেখানে আগস্টে গিয়ে তা কমে হয়েছে ১৫ হাজার ৮৯২ টাকা। অন্যদিকে মার্চে যেখানে মাসিক ব্যয় ছিল ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা, সেখানে আগস্টে গিয়ে তা কমে হয়েছে ১৪ হাজার ১১৯ টাকা। সেই হিসাবে আয় ২০ দশমিক ২৪ ও ব্যয় ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ কমেছে। টেলিফোনের মাধ্যমে ১৩-১৯ সেপ্টেম্বর এ ধারণা জরিপটি করেছে বিবিএস। দৈবচয়নের মাধ্যমে ২ হাজার ৪০টি ফোন নাম্বার নির্বাচন করে জরিপটি করা হয়েছে। বিবিএসের ইতিহাসে এটিই প্রথম টেলিফোন ধারণা জরিপ।

জরিপের তথ্য-উপাত্ত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, শতকরা প্রায় ৬৮ দশমিক ৩৯ ভাগ পরিবার বা খানা কোনো না কোনোভাবে করোনার অভিঘাতে আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে রিকশা বা ভ্যানচালক ও দিনমজুররা অধিক মাত্রায় আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন। করোনাকালীন আর্থিক সংকট মোকাবিলায় প্রায় ২১ দশমিক ৩৩ শতাংশ পরিবার বা খানা সরকারি সহায়তা বা ত্রাণ গ্রহণ করেছে। আর সরকারি সহায়তা বা ত্রাণ গ্রহণকারী এ খানা বা পরিবারগুলোর ৯৮ দশমিক ৪৪ শতাংশের আগস্ট মাসে এবং ৮২ দশমিক ৬৪ শতাংশের মার্চ মাসের গড় আয় ছিল ২০ হাজার টাকা বা তার কম। বিবিএসের দাবি, সরকারি সহায়তা বা ত্রাণ বেশিরভাগ নিম্ন আয়ের পরিবার বা খানাগুলো পেয়েছে।

উত্তরদাতাদের পেশাগত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছর মার্চে (১০ দশমিক ২৩ শতাংশ), এপ্রিল-জুলাইয়ে (৯ দশমিক ২২ শতাংশ) এবং সেপ্টেম্বর (১০ দশমিক ১৩ শতাংশ) মাসে কৃষিজীবীর সংখ্যা স্থিতিশীল রয়েছে। মার্চ মাসে ব্যবসায়ীর (১৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ) সংখ্যা এপ্রিল-জুলাই মাসে কমেছে (৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ)। তবে এ সংখ্যা সেপ্টেম্বর মাসে পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে (১৬ দশমিক ৫১ শতাংশ)। একইভাবে দিনমজুরের সংখ্যা মার্চ মাসে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ থেকে এপ্রিল-জুলাইয়ে ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ কমলেও সেপ্টেম্বরে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে হয়েছে। এছাড়া পেশাজীবীর সংখ্যা প্রায় মহামারীর আগের অবস্থানে ফেরত এসেছে।

মার্চে বেকার বা কর্মহীনের শতকরা হার ছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ। যদিও এপ্রিল-জুলাইয়ে এ হার বৃদ্ধি পেয়ে ২২ দশমিক ৩৯ শতাংশ হয়েছিল, তা সেপ্টেম্বরে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ জরিপ অনুসারে, বর্তমানে দেশে একটি গতিশীল শ্রমবাজার বিদ্যমান রয়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। অর্থাৎ বর্তমানে আমরা করোনা মহামারীর অভিঘাত ক্রমান্বয়ে কাটিয়ে উঠছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত