মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা

প্রশ্ন ফাঁস হয় স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর ছাপাখানা থেকে

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২০, ০৪:০৩ এএম

সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হতো স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর ছাপাখানা থেকে। আর এ চক্রের প্রধান ছাপাখানার প্রিন্টিং মেশিনম্যান আবদুস সালাম (৫০)। তাকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর এ তথ্য জানিয়েছে সিআইডি।

সংস্থাটির মালিবাগের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম বলেন, গত সোমবার রাজধানীর রামপুরা এলাকা থেকে আবদুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষের করা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সন্ধান পায় সিআইডি। ঢাবি ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সানোয়ার হোসেনের স্বীকারোক্তি থেকে অনেক তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের সূত্র ধরে চলতি বছরের ১৯ জুলাই ঢাকার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় মেডিকেল প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্য জসিম উদ্দিন ভূঁইয়াসহ জাকির হোসেন দীপু এবং পারভেজ খানকে। ওই সময় জসিমের কাছ থেকে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক, ২ কোটি ২৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং পারভেজের কাছ থেকে ৮৪ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়। যা মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিল তারা।

সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘গত ২০ জুলাই মিরপুর থানায় মামলা করে সিআইডির সাইবার পুলিশ। এই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপ্রত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে তারা। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে আরেক মাস্টারমাইন্ড স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর মেশিনম্যান আবদুস সালামের নাম।’

সংবাদ সম্মেলনে এস এম আশরাফুল আলম জানান, ‘মামলার খবর পেয়ে গা ঢাকা দেয় আবদুস সালাম। পরে ৫ অক্টোবর রাজধানীর রামপুরা বনশ্রী এলাকার জি ব্লকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। এর আগেও মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের একটি মামলায় তাকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে সিআইডি।’

জসিম ও সালামের বিপুল সম্পদ : প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্য জসিম-সালামসহ অন্য সদস্যদের অবৈধভাবে আয় করা সম্পদের খোঁজ করছে সিআইডির সাইবার পুলিশ। ইতিমধ্যে চক্রের অন্যতম সদস্য জসিম উদ্দিনের ৩৮টি ব্যাংক হিসাবের খোঁজ মিলেছে। যেখানে প্রায় ২১ কোটি ২৭ লাখ টাকা রয়েছে। আর জসিমের স্ত্রী জেসমিন আরা শিল্পীর ব্যাংক হিসাবে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকার সন্ধার পেয়েছে সিআইডি। এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধান চলছে।

অনুসন্ধান শেষ হলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করবে সাইবার পুলিশ। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত ৫ থেকে ৬ জন চিকিৎসক এবং ৩টি কোচিং সেন্টারের সম্পৃক্ততাও পেয়েছে সিআইডি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত কয়েক বছরে সাইবার পুলিশ টানা অভিযান এবং আসামি গ্রেপ্তারের ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁস অনেকাংশে কমে গেছে। বিগত বছরগুলোতে যেসব শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল পরীক্ষায় ফাঁস করা প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে ভর্তি হয়েছেন তাদের শনাক্ত করে চক্রের অন্য সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

সিআইডি আবদুস সালামের ১০ দিনের রিমান্ড চাইবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত