বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাষ্ট্রীয় মদদে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। যখনই কোনো ঘটনা ঘটে তখনই মন্ত্রীরা বিএনপি-জামায়াতের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। ফলে অপরাধীরা আরও বেশি আশকারা পেয়ে যায়, আরও বড় অপরাধ সংঘটিত করে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আজকের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘যখন প্রধানমন্ত্রী বলেন বেডরুমে পাহারা দিতে পারব না, তখন অপরাধীরা আশকারা পেয়ে যায়। যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন পৃথিবীর সব দেশে ধর্ষণ হয় তখন এরা আশকারা পেয়ে যায়। যখন তথ্যমন্ত্রী বলেন, এর সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জড়িত তখন অপরাধীরা আরও আশকারা পেয়ে অপরাধ বাড়িয়ে দেয়। নারীর সম্ভ্রমহানির ঘটনা আওয়ামী লীগের আমলে বিস্তার লাভ করছে। প্রতি বছর বীভৎসতা বাড়ছে। আপনারা দেখবেন এ বছরের যে বীভৎসতা সেটা আগামী বছর আরও তীব্র রূপ নিয়ে আসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে যে অবস্থা চলছে পাকিস্তান আমলে ২৫ মার্চের আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কি-না আমার জানা নেই। আজকে রাষ্ট্র যখন এত অমানবিক এবং আমরা রাষ্ট্রের যখন এই নিষ্ঠুর চরিত্র দেখি তখন জনপদের পরে জনপদে কেন এ রকম অপকর্ম দেখা যাবে না। আমরা বিপন্ন আমরা রাস্তাঘাটে চলতে ভয় পাচ্ছি, এমনকি মেয়েদের নিয়ে নিজের ঘরে থাকতে ভয় পাচ্ছি। এমসি কলেজের এই নৃশংস ঘটনার পরে আবার সেই বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটল।’
প্রশাসনের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময়ে এমন প্রশাসন তৈরি হয়েছে যে নির্যাতিত মানুষ সেখানে গিয়ে কমপ্লেইন করতে পারে না। দুষ্কৃতকারীরা এতই ভয়ংকর যে বেগমগঞ্জের ওই নারী অভিযোগ করার পর্যন্ত সাহস পাননি। ভয়ে নিজের এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। অথচ কালকে আমরা একটা মিছিল করি দেখবেন পুলিশ পেছন থেকে টপাটপ করে বিএনপির নেতাকর্মীদের কীভাবে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। এখানে তারা দারুণ নৈপুণ্য ও দক্ষতা দেখিয়েছে।’
ওলামা দলের আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল মাওলানা শাহ নেছারুল হকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব প্রিন্সিপাল মাওলানা নজরুল ইসলাম তালুকদারের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আবদুস সালাম, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু প্রমুখ।
