সারা দেশে ধর্ষণ, লুণ্ঠন, নির্যাতন-নিপীড়ন সরকারের মদদে হচ্ছে এমন অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি না যান এ দেশের জনগণ আপনাদের চলে যেতে বাধ্য করবে। আমাদের চুপ থাকার সময় নেই। দলমত নির্বিশেষে এ অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সারা দেশে ঘটে যাওয়া ধর্ষণবিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
মানববন্ধন থেকে আজ বৃহস্পতিবার দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগরের বিএনপির উদ্যোগে ধর্ষণবিরোধী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনের অংশ নিতে সকাল থেকেই প্রেস ক্লাব চত্বরে জমায়েত হতে শুরু করেন দলটির বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানার নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ধর্ষণবিরোধী বিভিন্ন সেøাগান দেন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানান।
‘সারা দেশে যে ধর্ষণ হচ্ছে আমরা এর দায় এড়াতে পারি না’Ñ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, তার মানে তারা স্বীকার করে নিয়েছেন, দেশে যে ধর্ষণ, লুণ্ঠন নির্যাতন-নিপীড়ন হচ্ছে এতে তাদের মদদ রয়েছে। এর জন্য তারাই দায়ী।
তিনি বলেন, এ স্বৈরাচারী সরকারের আমলেই দেশে গুম, খুন, ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। এ সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। শুধু প্রেস ক্লাবের সামনে বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। আজকে পুরো বাংলাদেশের মানুষ ফুঁসে উঠেছে। সরকার দেশকে এ ভয়াবহ নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে গেছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ভয়াবহ এবং মর্মান্তিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এটা পুরো জাতি শুধু নয়, সারা বিশ্বের মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। শুধু নোয়াখালীর ঘটনায় নয়, গত কয়েক বছর ধরে এ দেশে ধর্ষণের মহোৎসব শুরু হয়েছে। নারীর শ্লীলতাহানি, নারীর প্রতি নির্যাতন এই অবৈধ সরকারের কাছে একটা নিয়মে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়া সারাটা জীবন দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি খুব অসুস্থ। কিন্তু তার যে প্রাপ্য সেটা তাকে দেওয়া হচ্ছে না। আমি দ্বিধাহীনভাবে বলতে চাই, এ সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য সব ধরনের বৈধতা এবং অধিকার হারিয়েছে। তাদের ক্ষমতায় থাকার কোনো রকমের কোনো ধরনের কারণ নেই।’
বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্স, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, ঢাকা-৫ উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া প্রমুখ।
