শিশুদের জন্য কাজ করে রাজকীয় সম্মাননা পেলেন র‍্যাশফোর্ড

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৫৭ পিএম

করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময়ে কয়েক লাখ ভুক্ত শিশু শিক্ষার্থীর খাবার নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ব্রিটিশ রানির সম্মাননায় ভূষিত হলেন ইংল্যান্ড জাতীয় দল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটের তারকা মার্কাস র‍্যাশফোর্ড।

মেরিট অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার, বা সংক্ষেপে এমবিই- ব্রিটিশরাজের এই সম্মানসূচক খেতাব পেলেন এই ফরোয়ার্ড। স্যার হওয়ার পথেও আরেক ধাপ এগিয়ে গেলেন ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলার।

ইংল্যান্ডে সাধারণত কর্মজীবী বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের স্কুলেই রেখেই কাজ করতে চান। স্কুলে ছেলেমেয়েরা অনেকটা সময় থাকে, দুপুরের খাবারটা সেখানেই খায়। আর এই খাবারটা আসে স্কুলের যার মানে সরকারের তরফ থেকেই।

রাশফোর্ড নিজেও এভাবে বড় হয়েছেন। তার মা ছিলেন চাকুরে, ছেলেকে স্কুলে রেখে এরপর সারা দিন হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতেন। কিন্তু এই এক বেলা খাবার জোগানোই কঠিন হত তার জন্য। ইংল্যান্ডের অসংখ্য নিম্নবিত্ত শ্রেণির লোক তাই স্কুলের খাবারের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে।

করোনার মধ্যে এবারের গ্রীষ্মের ছুটির সময় এই ভাউচার চালু না রাখার ঘোষণা দেয় সরকার। যেটা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো হয়ে এসেছে অভিভাবকদের জন্য। এ রকম হলে প্রায় ১৩ লাখ শিশুকে না খেয়ে থাকতে হবে। এই পরিস্থিতিতে চুপ করতে থাকতে পারেননি র‍্যাশফোর্ড।

এসব শিশু শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্য খাবার নিশ্চিতে নেমে পড়েন র‍্যাশফোর্ড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু করেছেন তুমুল প্রচারণা। ইংল্যান্ডের অনেকে সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদরাও যোগ দিয়েছেন তার সঙ্গে, সেই আন্দোলন পরিণত হয়েছে গণমানুষের দাবিতে। শেষ পর্যন্ত রাশফোর্ডের দাবির মুখে পিছু হটেছে ব্রিটিশ সরকার।

করোনার সময় এর মধ্যেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০ মিলিয়ন পাউন্ড তহবিল সংগ্রহ করেছেন রাশফোর্ড। বধির শিশুদের জন্য ইশারার ভাষা শিখেছেন। শিশুদের নিয়ে এই কাজের ফল হিসেবে পুরস্কার পেলেন র‍্যাশফোর্ড। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের জন্মদিন উপলক্ষে এমবিই পুরস্কারে ভূষিত করা হয় তাকে।

এই পুরস্কার পাওয়ার ঘোষণা শুনে বিবিসিকে র‍্যাশফোর্ড বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে এটা আমার জন্য সুন্দর একটি মুহূর্ত। তবে আমি এখনো মনে করি, আমি যে লক্ষ্য অর্জন করতে চাই এটা কেবল সে অভিযানের শুরু।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত