নামের মিলের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আবদুল শুক্কুর (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। যার বাড়ির পেছন থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, যাকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে এবং মামলায় যাকে সাক্ষী করা হয়েছে, তিনজনেরই নাম ‘আবদুল শুক্কুর।’
অথচ যার বাড়ির পেছন থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে তাকে আসামি করা হয়নি। ইয়াবা পাচারের অপরাধে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হয়ে আবদুল শুক্কুর এখন ঘরছাড়া বলে অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধে মৃত সুলতান আহমদের ছেলে আবদুল শুক্কুরকে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী আবদুল শুক্কুর। স্থানীয় কিছু কুচক্রী মহলের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, যে ঘরের পেছন থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, সেই বাড়িতে থাকত মৃত আবদুল শুক্কুরের ছেলে সেলিম। তাকে আসামি করা হয়নি। অথচ মামলায় বলা হয়েছে আমার ঘরের পেছনের টয়লেট থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ মামলায় আমাকে আসামিও করা হয়। অথচ আমার ঘরে কোনো অভিযান চালানো হয়নি, পেছনে কোনো টয়লেটও নেই।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে রায়পুর ইউনিয়নের ঘাটকুল এলাকা থেকে ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। এ ঘটনায় ২৮ সেপ্টেম্বর আনোয়ারা থানায় মৃত সুলতান আহমদের ছেলে আবদুল শুক্কুরসহ তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়।
মামলার বাদী কোস্টগার্ড সাঙ্গু স্টেশনের পেটি অফিসার প্রবীর কুমার রায় বলেন, শুক্কুর আমাদের কাছে এসে বিষয়টি জানিয়েছেন। যে ঘরের পেছন থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে সেই ঘরে কোনো লোকজন ছিল না। আমরা ওখানে কাউকে চিনি না। ‘মানুষের কাছ থেকে শুনে’ এজাহারে নাম দিয়েছি। আমাদের সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই। শুক্কুর নির্দোষ হলে চার্জশিট থেকে বাদ দিতে পারেন তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলার সাক্ষী স্থানীয় চৌকিদার আবদুল শুক্কুর বলেন, কোস্টগার্ড ইয়াবা উদ্ধার করেছে রাতে। কার ঘর থেকে উদ্ধার করেছে আমি জানি না। ইয়াবা উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে ছিলাম না। ঘটনার পরদিন সকালে কোস্টগার্ডের সদস্যরা গাড়িতে করে আমাকে থানায় নিয়ে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ারা থানার এসআই ইকরাম উজ্জামান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে সেলিমের ঘরের পেছন থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সেলিমকে কেন আসামি করা হয়নি কিংবা শুক্কুর কীভাবে আসামি হলো তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
