বিবস্ত্র করে নারী নির্যাতন

সাংবাদিকদের ওপর হামলা ক্যামেরা ছিনতাই

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২০, ০১:৫৮ এএম

নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় আলোচিত নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুরে এবার সাংবাদিকদের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন মামলায় গ্রেপ্তার স্থানীয় ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগের অনুসারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবুল কাশেম হেনস্তার শিকার হন। খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে কাউকে গ্রেপ্তার বা ছিনিয়ে নেওয়া ক্যামেরা উদ্ধার করতে পারেনি।

হামলার শিকার নিউজ ২৪ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিনের নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি আকবর হোসেন সোহাগ অভিযোগ করেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনিসহ আরও তিন সাংবাদিক জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে সংবাদ সংগ্রহের কাজে যান। ইউপি সদস্য সোহাগের বাড়ি থেকে ফেরার সময় পথে তার সহযোগী মিঠু, জয়নাল, আজাদ, রাসেল ও বাবুলসহ একদল যুবক সাংবাদিকদের বহনকারী মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে। এ সময় তারা মাইক্রোবাসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং নিউজ ২৪-এর ক্যামেরাম্যান মেহেদি হাসান ও চ্যানেল এস-এর নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি ইমাম উদ্দিন সুমনকে মারধর করে। একপর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের একটি ক্যামেরা ও অন্য একটি ক্যামেরার মেমোরি কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গতকাল বিকেলে বেগমগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানান আকবর হোসেন সোহাগ।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবুল কাশেম জিএস জানান, ঘটনার সময় তিনি জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে ছিলেন। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকেও নানাভাবে হেনস্তা করে। হামলাকারীরা তাকে গালিগালাজ এবং গায়ে পরিহিত মুজিব কোর্ট ধরে টানাহেঁচড়া করে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি হারুন অর রশিদ চৌধুরী বলেন, ‘জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে এর আগেই হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

নারীকে বিবস্ত্র নির্যাতনের ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় একলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগকে গত ৫ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দুদিনের রিমান্ড শেষে গত ৮ অক্টোবর এ মামলায় তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। নির্যাতনের শিকার ওই নারী সোহাগ মেম্বারের কাছে বিচার চাইতে গেলে তিনি তাকে দেড় হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। এলাকায় মানুষের জায়গা দখল এবং মাদক কারবারসহ সোহাগ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঘরে ঢুকে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন এবং ঘটনার সময় মোবাইল ফোনে ধারণ করা একটি ভিডিও গত ৪ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিন রাতে পুলিশ নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে খুঁজে বের করে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়। পরে সেদিন রাতেই ভুক্তভোগী বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত