হিন্দু-মুসলমান বিয়ে নিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে নিল তানিস্ক

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২০, ০১:৩৮ এএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডানপন্থীদের প্রবল প্রতিক্রিয়ার মুখে হিন্দু-মুসলমানের বিয়ে দেখিয়ে নির্মিত একটি বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে নিল ভারতের জনপ্রিয় জুয়েলারি ব্র্যান্ড তানিস্ক।

বিজ্ঞাপনে দেখানো হয়, এক হিন্দু নারীর বেবি শাওয়ার (গর্ভবতীর জন্য উৎসব) অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন, যারা মুসলমান।

বিবিসি জানায়, এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে লাভ জিহাদকে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থীরা। বিয়ের মাধ্যমে হিন্দু নারীদের ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করার অভিযোগ করতে এই শব্দবন্ধটি ব্যবহার করে আসছে তারা।

এদিকে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ভারতে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ঝুঁকির মুখে। হিন্দু-মুসলিম বিয়ে যুগযুগ ধরেই বিরোধিতার সম্মুখীন হয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি লাভ জিহাদের মত শব্দ ব্যবহারে এতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

তানিস্কের ওই বিজ্ঞাপনের বিরোধিতা করে টুইটারে ঝড় তুলেছে রক্ষণশীলরা। তারা ব্র্যান্ডটিকে বয়কটেরও দাবি তোলে।  আবার বিদ্বেষমূলক পোস্ট আর কমেন্টের বিরোধীতাও করেছেন অনেকে। সব মিলিয়ে অন্যতম শীর্ষ টুইটার ট্রেন্ডে পরিণত হয় তানিস্ককে বয়কট করার আহ্বান।

৪৩ সেকেন্ডের ওই বিজ্ঞাপনে একাত্মম নামে নতুন একটি জুয়েলারি লাইনের প্রচারণা চালিয়েছিল তানিস্ক। ইউটউবে ওই বিজ্ঞাপনের বর্ণনায় লেখা ছিল, সে এমন একটি পরিবারের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ, যারা তাকে নিজেদের সন্তানের মতোই দেখে। তার জন্যেই তারা এমন এক উৎসবের আয়োজন করেছে, যা সাধারণত তারা উদযাপন করে না। দুই ধর্মের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এ এক সুন্দর মেলবন্ধন।

তবে প্রতিবাদের মুখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে নেয় তানিস্ক। এ বিষয়ে বিবিসি তাদের বক্তব্য চাইলেও, তারা মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বিরোধী কংগ্রেস পার্টির এমপি শশী থারুর। টুইটারে তিনি লেখেন,  হিন্দু-মুসলমানের ঐক্য দেখিয়ে নির্মিত এই সুন্দর বিজ্ঞাপনটি বয়কটের ডাক দিয়েছে হিন্দুত্ববাদীরা। হিন্দু মুসলমানের ঐক্য যদি তাদের এতই অপছন্দ, তাহলে এর সবচেয়ে পুরনো উদহারণ ভারতকেই তারা বয়কট করে না কেন?

ভারতে নিজেদের গোত্রের বাইরে বিয়ের উদহারণ কম।  হিন্দু-মুসলমানের বিয়ে তো আরও  বিরল। তবে এ ধরনের বিয়ে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা কম নয়।

ইন্ডিয়া হিউম্যান সার্ভের এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৫ শতাংশ বিয়ে হয় ভিন্ন গোত্রে। ভিন্ন ধর্মের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা আরো কম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত