ইসলামি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির হার কমেছে

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২০, ০২:০১ এএম

টানা চার বছর ধরে দেশের ইসলামি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ বা বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধির হার কমছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ইসলামি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। করোনা সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকারের নির্দেশে পুরো দেশ দুই মাসেরও বেশি সময়ের লকডাউনে অধিকাংশ শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকায় ঋণ বিতরণে প্রবৃদ্ধির হার কমেছে বলে জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত ‘ডেভেলপমেন্ট অব ইসলামি ব্যাংকিং ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন তথ্য মিলেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের পর থেকেই দেশের ইসলামি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধির হার কমতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ইসলামি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৮ দশমিক ২৮ শতাংশ বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ইসলামি ব্যাংকগুলোর।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, চলতি বছরের শুরুতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের দেশব্যাপী লকডাউন করার কারণে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি হার কমেছে। লকডাউন চলাকালে সব কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে ব্যাংকগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হয়। যদিও জরুরি বিশেষ ব্যবস্থায় কিছু ব্যাংকের কিছু শাখা খোলা রাখতে হয়েছিল। ব্যাংকাররা জানান, করোনাকালীন শুধু ইসলামি ধারার ব্যাংক নয়, প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোরও ঋণ বিতরণ ছিল হতাশাজনক।

চলতি বছর ‘ডেভেলপমেন্ট অব ইসলামি ব্যাংকিং ইন বাংলাদেশ’ প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এপ্রিল-জুন প্রান্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে দেশের ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ বা বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা। এ বিনিয়োগের ৯৫ দশমিক ১২ শতাংশ করেছে আটটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক। আর ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ বিনিয়োগ করেছে প্রচলিত ধারার ব্যাংক ও অবশিষ্ট ২ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ বিনিয়োগ করেছে প্রচলিত ব্যাংকগুলোর ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডো।

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এ সময়ে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৬৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ছিল ২ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। করোনা সংক্রমণে লকডাউন সত্ত্বেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি হয় ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। ২০১৯ সালের একই সময়ে বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আর ২০১৯ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ইসলামি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ ছিল ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। এক বছরে বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

ইসলামি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ বা বিনিয়োগে শীর্ষে রয়েছে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, মোট বিনিয়োগে ব্যাংকটির মার্কেট শেয়ার ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী বাংক রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে, যাদের বিনিয়োগ ১৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। বিনিয়োগে পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে এক্সিম ব্যাংক ১৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ১০ দশমিক ৯৯ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ৭ দশমিক ২৬ শতাংশ, ইউনিয়ন ব্যাংক ৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের মোট বিনিয়োগের শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ মার্কেট শেয়ার রয়েছে।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশের মোট ব্যাংক ঋণ বা বিনিয়োগে ইসলামি ব্যাংকগুলোর মার্কেট শেয়ার দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, যা চলতি বছরের মার্চে ছিল ২৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সব ধরনের ব্যাংকের সম্মিলিত ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৬৩৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট ঋণে ইসলামি ব্যাংকগুলোর হিস্যা বাড়লেও শতাংশের হিসাবে আমানত কিছুটা কমেছে।

চলতি জুন পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং সিস্টেমে রাখা মোট আমানতের ২৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ হচ্ছে ইসলামি ব্যাংকগুলোর, যা মার্চে ছিল ২৫ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। চলতি জুন শেষে সব ব্যাংকের মোট আমানত ছিল ১১ লাখ ৮০ হাজার ৯৯৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যার মধ্যে ২ লাখ ৯১ হাজার ৩০৩ কোটি ৯০ লাখ টাকার আমানত হচ্ছে ইসলামি ব্যাংকগুলোতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত