৪৯ বছরেও শিরোপা জেতেন মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২০, ০১:৩২ এএম

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯৭৪ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেনের মিক্সড ডাবলস জয় দিয়ে শুরু। ২০০৬ সালে ইউএস ওপেনের মিক্সড ডাবল দিয়ে বর্ণাঢ্য এক ক্যারিয়ার শেষ করেছিলেন মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা। সবমিলিয়ে জিতেছেন ৫৯টি মেজর শিরোপা (গ্র্যান্ডস্ল্যাম) যার ১৮টি একক গ্র্যান্ডস্ল্যামে। ২০০৫ সালে এক জরিপে ইতিহাসের সেরা নারী টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে রায় দিয়েছিল ‘টেনিস’ ম্যাগাজিন।

যে কোনো খেলাতেই ফিটনেস মূল বিষয়। কিন্তু বয়স বেড়ে গেলে সেই ফিটনেস ধরে রাখা কঠিন। টেনিসেও ব্যতিক্রম নয়। তাই খুব বেশি বয়স পর্যন্ত খেলতে দেখা যায় না কাউকেই। কিন্তু নাভ্রাতিলোভা ছিলেন ভিন্ন ধাতুর। তাই ৪৯তম বছরেও কোর্টে দেখা গেছে তাকে। শিরোপাও জিতেছেন। ৪৯ বছর ১০ মাস বয়সে ২০০৬ ইউএস ওপেনের মিক্সড ডাবলস জিতে সবচেয়ে বেশি বয়সী হিসেবে গ্র্যান্ডস্ল্যাম শিরোপা জয়ের নিজেরই রেকর্ড ভাঙেন নাভ্রাতিলোভা। আজ তার ৬৪তম জন্মদিন।

ক্যারিয়ারে মোট ৩৩২ সপ্তাহ নারী এককের র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে ছিলেন। ডাবলসে রেকর্ড ২৩৭ সপ্তাহ। এতে টেনিস ইতিহাসে দারুণ কীর্তি আছে তার। একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে একক ও দ্বৈতে ২০০’র বেশি সপ্তাহ র‌্যাংকিং সেরা থাকার রেকর্ড। এক বর্ষপঞ্জিকায় র‌্যাংকিং সেরা থাকার রেকর্ডও নাভ্রাতিলোভার। এককে সাত বছর র‌্যাংকিং সেরা ছিলেন, এর মধ্যে রেকর্ড টানা পাঁচ বছর। এছাড়া ডাবলসেও সেরা ছিলেন পাঁচ বছর। এর মধ্যে টানা তিন বছর।

মার্গারেট কোর্ট জিতেছেন এককে ২৪ গ্র্যান্ডসø্যাম শিরোপা। সেরেনা উইলিয়ামসের অর্জন ২৩টি। স্টেফি গ্রাফ জিতেছিলেন ২২টি শিরোপা। ১৮টি শিরোপা জিতে নাভ্রাতিলোভা এরপর (অবশ্য সমান শিরোপা ক্রিস এভার্টেরও)। কিন্তু অন্য কারও যা নেই, তাই নাভ্রাতিলোভার ট্রফিকেসে- ৩১টি মেজর শিরোপা। মোট ৫৯টি শিরোপা নিয়ে ওপেন যুগে সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ী খেলোয়াড়ের তকমা এনে দিয়েছে তাকে। নাভ্রাতিলোভার মূল শক্তি ছিল উইম্বলডন। আজকের ফ্রেঞ্চ ওপেনে রাফায়েল নাদাল যেমন, উইম্বলডনে নাভ্রাতিলোভা তেমন। ১৯৮২ থেকে ১৯৯০- টানা ফাইনাল খেলেছেন অল ইংল্যান্ড ক্লাবে। আরও তিনবার মিলিয়ে মোট ১২বার উইম্বলডনের ফাইনালে খেলে জিতেছেন ৯বার। টানা জিতেছেন ৬ বার। এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘উইম্বলডন নেশার মতো। এখানে একটি শিরোপা জিতলে মনে হবে আরেকটি জিতি।’

এছাড়া ক্যারিয়ার গ্র্যান্ডস্ল্যাম অর্জন করা তিন নারী খেলোয়াড়ের একজন তিনি। একই সঙ্গে নারী একক, দ্বৈত ও মিশ্র দ্বৈতে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ডস্ল্যাম জিতেছেন। এই অর্জনকে টেনিসের ভাষায় বলা হয় ‘গ্র্যান্ডস্ল্যাম বক্স সেট’। কোনো সেট না হেরেই সর্বোচ্চ ৬টি একক গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ের কীর্তি আছে নাভ্রাতিলোভার। এই কীর্তির সমকক্ষতা অর্জন করেছেন পরে সেরেনা উইলিয়ামস।

ক্যারিয়ারের শুরুতে জাতীয়তার সমস্যায় পড়তে হয়েছিল তাকে। ১৯৭৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন তিনি। যা জন্মভূমি চেকোস্লোভাকিয়ায় তাকে বেশ সমালোচনায় ফেলে দেয়। ১৯৮১ সালে আমেরিকার নাগরিকত্ব পেয়ে যান নাভ্রাতিলোভা। অবশ্য ২০০৮ সালে চেকোস্লোভাকিয়া ভেঙে উদ্ভব চেক প্রজাতন্ত্রের নাগরিকত্ব পেয়ে যান তিনি। পরে কোচিং করিয়েছেন দেশের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত