জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সুপারকে ‘লাঞ্ছিত করলেন’ ঠিকাদার আ.লীগ নেতা

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৩৪ পিএম

পাবনায় অফিসে ঢুকে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সুপার মুশফিকুর রহমানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদার আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। তবে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

সোমবার বিকেলে জেলা পরিষদ ভবনের নিচতলায় অবস্থিত হিসাবরক্ষণ অফিসে এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কর্মকর্তা সন্ধ্যায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

পৌর মেয়র কর্তৃক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাঞ্ছিতের রেশ কাটতে না কাটতেই এ ঘটনা ঘটল।

ভুক্তভোগী মুশফিকুর রহমান জানান, জেলা ফিন্যান্স ও অ্যাকাউন্টস অফিস থেকে সকল সরকারি কর্মকর্তার বেতন ও উন্নয়নকাজের বিলের অর্থ প্রদান করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণাদি ছাড়া তা প্রদান সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সম্প্রতি শহরের কৃষ্ণপুর এলাকার নাইস কনস্ট্রাকশনের মালিক ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ফারুক হোসেন তার একটি ঠিকাদারি কাজের জামানাতের পাঁচটি চালান হারিয়ে ফেলেন এবং ডুপ্লিকেট চালান তৈরি করে বিল দাখিল করেন।

এই কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি আইন সম্মত না হওয়ায় হারিয়ে যাওয়া জামানাতের চালানের অনুকূলে থানায় জিডিসহ বিল দাখিলের পরামর্শ দেওয়া হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার বিকেলে ম্যানেজার আসাদকে সঙ্গে নিয়ে হিসাবরক্ষণ অফিসে এসে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধর করতে উদ্যত হন। এ সময় অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটে এসে তাকে থামাতে গেলে তিনি হত্যার হুমকি দেন।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনার পর আমিসহ অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ বিষয়ে থানায় নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করা হয়েছে।

পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসিম আহমেদ জিডির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তদন্তসাপেক্ষে হিসাবরক্ষণ অফিসের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত ঠিকাদার ফারুক হোসেন বলেন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা অহেতুক ঘোরানোয় কিছুটা কথা-কাটাকাটি হয়েছে। লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটেনি।

পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

এর আগে গত ১২ অক্টোবর পাবনার বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে পৌর মেয়র আবদুল বাতেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত