সিলেটের বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে যুবক রায়হান আহমদের মৃত্যুর প্রতিবাদ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবারও বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় পুলিশের একটি গাড়ি বন্দরবাজার এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় তা ধাওয়া করেন সভায় উপস্থিত কিছু মানুষ।
গাড়িটি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনারের (প্রসিকিউশন) ছিল বলে জানা গেছে।
তবে গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি বা কারও আহত হওয়ার ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সিলেট নগরের সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীরা বন্দর বাজার কালেক্টরেট মসজিদের সামনে বিক্ষোভ করেন। সিলেট জেলা ও মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ এই আয়োজন করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রায়হানকে পুলিশ ফাঁড়িতে নৃশংসভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত পালিয়ে গেছেন। অভিযুক্ত আরো ছয় পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বহিষ্কার এবং প্রত্যাহার করা হয়েছে। তারা প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেলেও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করা না হলেও তারাও পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
বক্তারা বলেন, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে তাঁরা কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন।
প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে পুলিশের গাড়িতে হামলার বিষয়টি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন ব্যবসায়ী নেতারা।
তারা বলেন, কিছু মানুষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছেন। বিষয়টিকে রাজনৈতিক খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। তারা দাবি আদায়ে সবাইকে একসঙ্গে এনেছেন। এখানে রাজনীতির কোনো সুযোগ নেই।
কর্মসূচিতে সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি শেখ মকন মিয়া সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আবদুর রহমান, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও বৃহত্তর আখালিয়া সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মখলিছুর রহমান কামরান, বৃহত্তর মদিনা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমির হোসেন, হাসান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রইছ আলী, ব্রহ্মময়ী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আতিকুর রহমান প্রমুখ।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার বি এম আশরাফ উল্যাহ বলেন, ওই গাড়ি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরীর। তিনি আদালত থেকে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা কারও আহত খবর পাওয়া যায়নি।
