দাম বাড়িয়েও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি আলুর বাজার

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২০, ১০:৫৩ পিএম

রাজধানীর খিলক্ষেতের বাসিন্দা রেজাউল করিম বুধবার স্থানীয় বাজারে আলু কিনতে গিয়ে দেখতে পান প্রতিকেজি আলুর দাম ৫০ টাকা। সরকার খুচরায় কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা দাম নির্ধারণের পরেও ৫০ টাকা দরে কেন বিক্রি করছে জানতে চাইলে বিক্রেতা জানান, সরকারের কাছ থেকে ৩৫ টাকায় নেন। আমার কাছ থেকে নিলে ৫০ টাকা লাগবে। বাধ্য হয়ে তিনি ওই দামেই এক কেজি আলু কেনেন। এর মধ্যে আবার দুটি পচা।

রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকার এই নিয়ে দুই বার আলুর দাম নির্ধারণ করে দিল। কিন্তু কেউই এই দামে বেচছে না। যদি বাস্তবায়ন করতে না-ই পারে তাহলে এই লোক দেখানো দাম নির্ধারণের দরকার কি? সরকার-খুচরা বিক্রেতা সবাই বলছে হিমাগার থেকে দাম বাড়ানো হচ্ছে। তাহলে হিমাগারের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন?

রেজাউল করিমের মতো অনেকের মনেই এখন এমন প্রশ্ন। তারা জানতে চায়, সরকার দাম নির্ধারণের পরেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না কেন? প্রশাসনও বা কি করছে?

বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেক দোকানেই আলু নেই। যেসব দোকানে আছে তারা প্রতিকেজি আলু বিক্রি করছেন ৪৫-৫০ টাকা দরে। সরকার নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি না করায় অনেক দোকানদারকে ক্রেতাদের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হতেও দেখা গেছে। তবে কেউই নির্ধারিত দামে বিক্রি করেননি। ক্রেতাদেরও বাধ্য হয়ে চড়া দামেই পণ্যটি কিনতে হচ্ছে।

রাজধানীর কাঁঠালবাগানের দোকানদার রফিকুল ইসলাম বলেন, পাইকারি বাজারেই আলু নেই। একজনের থেকে অল্প কিছু আলু পেয়েছি। কেনা দামই পড়ছে ৪৫ টাকা। এর সঙ্গে অন্যান্য খরচও আছে। ৫০ টাকার নিচে তাই কেজি বিক্রি করা সম্ভব না। এরপরেও ঝামেলা। ক্রেতারা অযথা তর্ক করে। কখন আবার অভিযান শুরু হয় সেই ভয়ে আছি। চিন্তা করছি দাম না কমার আগে আর আলু তুলব না।

তবে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পরিচালক দেওয়ান আশরাফুল হোসাইন দাবি করেছেন, বাজারে আলুর দাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বিশেষকরে রাজধানীর বাইরে দাম কার্যকরের হার খুবই ভালো। জেলা প্রশাসকেরা নির্ধারিত দাম কার্যকরে শক্ত অবস্থানে গিয়েছে। হিমাগারগুলোকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। দাম বাস্তবায়নে ৪ জন কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজধানীতে এখনো দাম সেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। আমরা আশা করছি শুক্রবারের আগেই দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এরপরেও যদি ব্যবসায়ীরা কথা না শোনে তাহলে সমন্বিত টিম গঠন করে সারাশি অভিযান চালানো হবে। আলুর দাম নিয়ে আর কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে বুধবার থেকে রাজধানীতে সরকারের বিপণন সংস্থা টিসিবির মাধ্যমে প্রতিকেজি ২৫ টাকা দরে পণ্যটি বিক্রি করছে সরকার। একজন ক্রেতা দিনে সর্বোচ্চ ২ কেজি আলু কিনতে পারছেন। বাজারে আলুর সংকট ও অতিরিক্ত দামের কারণে গতকাল সকাল থেকেই আলুর কিনতে টিসিবির ট্রাকে ভিড় করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে পর্যাপ্ত আলুর অভাবে অনেককেই আলু না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। দাম না কমা পর্যন্ত পণ্যটি বিক্রি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে টিসিবি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত