ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, তুরাগ, উত্তরা এবং উত্তরখান এলাকা নিয়ে ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচনী এলাকা গঠিত। তবে এ এলাকার মূল সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জলাবদ্ধতা ও মাদক। এলাকাবাসী বলছেন, অন্যান্য এলাকার তুলনায় এ এলাকা তুলনামূলক অবহেলিত। বৃহৎ এলাকা হওয়ায় এ এলাকার উন্নয়নকাজ সব জায়গায় সঠিকভাবে হচ্ছে না। তারা বলছেন, ভালো সুয়ারেজ লাইন না থাকায় অল্প বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে আর তার কারণে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি মাদকের সমস্যাও প্রকট। ভোটারদের দাবি, যিনিই জনপ্রতিনিধি হোন না কেন তার যেন প্রথম কাজ হয় এলাকা থেকে জলাবদ্ধতা দূর করে জনভোগান্তি দূর করা।
এ আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে মননোয়ন দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাবিব হাসানকে। তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত । ৯০ পরবর্তী সময়ে তিনি বৃহত্তর উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ৯৬ সালে বিরোধী দলে থাকাকালীন তিনি বৃহত্তর উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের জন্য অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ২০১৬ সালে তিনি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। একই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে।
গতকাল বুধবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মূল সড়ক ঠিক থাকলেও গলির রাস্তার বেহাল দশা। তীব্র যানজট দেখা যায় চেয়ারম্যানবাড়ি, দক্ষিণখান এলাকাসহ আশপাশের এলাকায়। সুয়ারেজ লাইন ঠিক না থাকায় ড্রেনের পানিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।
জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বাজার এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের এই এলাকার প্রধান নাগরিক সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এখানে দেখেন সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে রাস্তার মধ্যে, ফলে আমাদের চলাচল করতে বেশ কষ্ট হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতে বেশ কষ্ট করতে হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আরও অনেক সমস্যাই আছে। এলাকায় মাদকাসক্তও সংখ্যায় একেবারে কম নয়। বিশেষ করে তরুণ সমাজ মাদক ব্যবহার করে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
এই আসনের ভোটার ফয়েজ আহমেদ হাবিব হাসানকে যোগ্য প্রার্থী উল্লেখ করে বলেন, ‘তিনি দীর্ঘদিন গণমানুষের জন্য কাজ করে গেছেন, এই করোনাকালে তিনি জনপ্রতিনিধি না হয়েও সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন। তিনি একজন সুশিক্ষিত, সৎ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ।’
একই বক্তব্য পেশায় ব্যবসায়ী আমিনুর রহমানের তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সামনে উপ-নির্বাচন, আমার ভোট আমি যোগ্য প্রার্থীকেই দেব যিনি এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন, যিনি আমাদের সব সমস্যা দূর করবেন।’ কসাই বাজার এলাকার পাশের রাস্তার বেহাল দশার কথা উল্লেখ করে হাবিব মোল্লা নামের এক বাসিন্দা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা বেশি, যার কারণে যানজট লেগে থাকে। মাঝে মাঝে বিশেষ করে বাজার এলাকায় রাস্তার পাশে ফুটপাতে বাজার বসার কারণে এই সমস্যা আরও বেশি প্রকট হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সামনের উপ-নির্বাচনে আমরা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেব নিজের পছন্দের প্রার্থীকে। যিনি আমাদের জন্য কাজ করবেন।’
এই আসনের উত্তরখান এলাকার তরুণ ভোটার মেসবাউল আলম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের এই এলাকায় মশা বেশি। আর কিছুদিন পরেই মশার উপদ্রব বেড়ে যাবে, আমরা এই উপদ্রব থেকে নিস্তার চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাছাড়া মাদক সমস্যার পাশাপাশি রয়েছে ডাস্টবিনের অভাব। ফলে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা। আমরা এ সমস্যার সমাধান চাই তার কাছে যিনি আগামীতে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হবেন।’
জানতে চাইলে ঢাকা-১৮ আসনের আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত প্রার্থী আলহাজ মোহাম্মদ হাবিব হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আপনি জানেন, আমাদের এলাকার অনেক অংশ সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আর এই এলাকার উন্নয়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৪০২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছেন। আশা করি এলাকার সব সমস্যার সমাধান আগামী এক বছরের মধ্যে সমাধান হবে, পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নকাজ দৃশ্যমান হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আসন্ন উপনির্বাচনে আমি যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হই তাহলে এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমার নির্বাচনী এলাকাকে একটি মডেল নির্বাচনী এলাকায় পরিণত করব। এই এলাকার সঙ্গে গুলশান, বনানী এলাকার কোনো পার্থক্য থাকবে না। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, মাদক নির্মূল করব সমাজের শেকড় থেকে।’
এই নির্বাচনকে ভোটের চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আপনারা জানেন সরকার সারা দেশের মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বিরত রাখতে চায়। আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি মানুষকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার; যাতে করে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার প্রথম পরিকল্পনা হলো মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করা, এ সমাজটা মাদকে ছেয়ে গেছে। মাদকের কারণে সমাজ কলুষিত হচ্ছে। সমাজকে আগে কলুষমুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করব। তবে মাদক আর চাঁদাবাজিতে আমাদের অবস্থান থাকবে জিরো টলারেন্স।’
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ নভেম্বর ঢাকা-১৮ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই আসনে উপনির্বাচন হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১৩ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৫ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২২ অক্টোবর। আর ভোটগ্রহণ ১২ নভেম্বর। গত ৯ জুলাই আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৮ আসনটি শূন্য হয়।
