সাভার পৌর এলাকার ভাগলপুর হিন্দুপাড়া মহল্লায় এক কিশোরীকে (১২) জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত নিজামুদ্দিন সরদার ওরফে মিজান (৩০) ও তার সহযোগী বাড়ির মালিক শরিফুল ইসলামের (৩৩) বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা।
মামলার পলাতক আসামি নিজামুদ্দিন সরদার ওরফে মিজান (৩০) বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া থানার চাউকাঠি গ্রামের মৃত আবু বক্কর সরদারের ছেলে । অপর আসামি বাড়ির মালিক মোহাম্মদ শরিফ (৩৩) সাভার পৌরসভার ভাগলপুর হিন্দুপাড়া এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে। এদের মধ্যে নিজামুদ্দিন সরদার ওরফে মিজান পেশায় গাড়িচালক এবং তাকে সহায়তা করা শরিফুল ইসলাম (৩৩) এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, শরিফুলের সহায়তায় মিজান তার মেয়েকে ধর্ষণ করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার কয়েকজন বসে মীমাংসার চেষ্টা করেন। এই সুযোগে আসামিরা পালিয়ে যান। ঘটনার কোনো মীমাংসা না হওয়ায় তিনি সাভার থানায় মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাড়ির তৃতীয় তলায় বসবাস করেন। অভিযুক্ত যুবক নিজামুদ্দিনের সঙ্গে ওই কিশোরীর বড় বোনের পূর্বে বিয়ে হয়েছিল। তবে লম্পট স্বভাবের হওয়ায় তিন মাস আগে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর থেকে নিজামুদ্দিন নানাভাবে ওই কিশোরীর পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করতে থাকেন।
বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার সময় ঘর থেকে বের হলে নিজামুদ্দিন তার মুখ চেপে ধরে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। এ সময় বাড়ির মালিক শরিফের সহযোগিতায় নিজামুদ্দিন ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে মীমাংসার কথা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। কিন্তু এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলে কৌশলে পালিয়ে যায় তারা।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক হামিদুর রহমান বলেন, কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনার পর তা স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে কারা মীমাংসার চেষ্টা করেছে তা জানা যায়নি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা ধর্ষক নিজামুদ্দিন ও বাড়ির মালিক শরিফুলকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকের ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
