বাবার বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না ফেরদৌস ওয়াহিদের দুই ভাতিজিকে

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৫৭ পিএম

সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদের দুই ভাতিজিকে ঢাকার গুলশানে বাবার বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী দুই বোন। ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাই মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের দুই মেয়ে মুশফিকার মোস্তফা ও মোবাশশারা মোস্তফা ১২ অক্টোবর গুলশান থানায় জিডিও করেছেন।

তাদের অভিযোগ, তাদের সৎ মা জগলুল ওয়াহিদের দ্বিতীয় স্ত্রী আনজু কাপুর তাদের বাসায় ঢুকতে বাধা দিচ্ছেন। ওই দুই বোনের অভিযোগের বিপরীতে থানায় পাল্টা জিডি করেছেন আনজু কাপুর। ভারতীয় নাগরিক আনজু কাপুরের অভিযোগ তারা দুই বোন ‘জোর করে বাসায় ঢোকার’ চেষ্টা করছেন।

দেশ রূপান্তরকে ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘বাড়িটা আমার ভাইয়ের। সম্প্রতি সে মারা গেছে। তার দুই মেয়েকে কেন বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, সেটা আমার মাথায় ঢুকছে না। তারাই তো বাড়ির বেশির ভাগের মালিক। এখন ওরা দুই বোন তো প্রাপ্ত বয়স্ক। তারা কেন আইনি পথে যাচ্ছে না। তাদের উচিত আইনি পথে যাওয়া।’

অভিভাবক হিসেবে মীমাংসা করিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কিছু ভাবছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তো অসুস্থ। কোভিড আক্রান্ত। আবার ঢাকাতেও আমি নেই। আমার ভাইবোনদের কেউই দেশে নেই। আমি আছি। তাও আমার গ্রামের বাড়িতে। আমার তো বের হওয়ার কোনো রাস্তা নেই। আর এই ঝামেলার বিষয়টি নিয়ে ওদের দুই পক্ষের কেউই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। যদি কখনো যোগাযোগ করে তাহলে বলব, আমার কাছে আসো। দুই পক্ষ বসে একটা মীমাংসায় যাও। আর না হলে কোর্টে যাও। এর বাইরে আমার কিছু করার নেই। বাড়ির মালিক তো আমি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি শুনেছি, গুলশান থানায় তারা কাগজপত্র নিয়ে গেছে। এখন যদি তাদের ঢুকতে না দেয় তাহলে আইন আছে, কোর্ট তো কাউকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে না।’

ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাই মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ ছিলেন বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন। গুলশান ২ নম্বর সেকশনের ৯৫ নম্বর রোডের ৪ নম্বর হোল্ডিংয়ে ১০ কাঠা জমির ওপর ওই বাড়ি তারই করা। জগলুল ওয়াহিদ ২০০৫ সালে চাকরি থেকে অবসরে যান; ওই বছরই স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়। পরে তার স্ত্রী গুলশানেই অন্য এক বাসায় ওঠেন। মুশফিকা ঢাকায় তার মায়ের সঙ্গে থাকেন। আর মোবাশশারা স্বামীর সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। গত ১০ অক্টোবর বাবার মৃত্যুর পর দাফন শেষে দুই বোন গুলশানের ওই বাসায় ঢুকতে গিয়ে বাধা পান বলে তাদের অভিযোগ।

গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, ‘জিডি দুই পক্ষই করেছে। দুই বোনের পক্ষ থেকে  একজন জিডি করেছেন তাদেরকে বাসায় ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আবার জোর করে বাসায় ঢোকার অভিযোগ দিয়ে থানায় জিডি করেছেন জগলুল ওয়াহিদের দ্বিতীয় স্ত্রী। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ভারতের বেঙ্গালুরোতে জন্ম দেওয়া আনজু কাপুর প্রায় এক দশক ধরে ঢাকায় বসবাস করছেন। তিনি পেশায় একজন পোশাক ব্যবসায়ী, আরিয়ানা স্টাইলস লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। বলিউডের তরুণ চলচ্চিত্র অভিনেতা ও প্রযোজক ধীরাজ কাপুর তার ছোট ভাই।

গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিয়ের যে কাগজপত্র তিনি দিয়েছেন, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তিনি ভারতীয় নাগরিক হওয়ায় সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার বিধান নেই। সে কারণে আনজু কাপুরকে সম্পত্তির তিন ভাগের একভাগ ওসিহত করে দেওয়া হয়েছে বলে সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের একটি নথি পাওয়া গেছে। সেটাও যাচাই করা হচ্ছে।’

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, জগলুল ওয়াহিদের দুই মেয়ে গত ১৫ বছর ধরে ওই বাসায় যান না। বাবা মারা যাওয়ার পর তারা ওই বাসায় গিয়েছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত