স্যামসাং সাম্রাজ্যের সন্ন্যাসী রাজা লি কোন হি

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৩:২২ এএম

ছোট্ট একটি টেলিভিশন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বের অন্যতম টেক জায়ান্টে পরিণত করেছেন লি কোন হি। রবিবার ৭৮ বছর বয়সে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। স্যামসাং-এর সন্ন্যাসী রাজা হিসেবে খ্যাত দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি লি কোন হি’র সংগ্রাম ও সাফল্য নিয়ে লিখেছেন পরাগ মাঝি

স্যামসাং-এর বিবৃতি

২৫ অক্টোবর টেক জায়ান্ট স্যামসাং-এর এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান লি কোন হি’র মৃত্যুর খবর জানানো হয়। মৃত্যুর সময় পরিবারের সদস্যরা তার পাশে ছিলেন। পাশে ছিলেন তার ছেলে ও স্যামসাং-এর ভাইস চেয়ারম্যান লি জায়ে ইয়ং। জানা গেছে, ৬ বছরেরও বেশি সময় আগে ২০১৪ সালের মে মাসে মারাত্মক এক হার্ট অ্যাটাকের মুখোমুখি হয়ে শয্যাশায়ী হন লি কোন হি। তার পর থেকে তার ছেলে লি জায়ে ইয়ং দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় কোম্পানিটির দায়দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।

লি কোন হি’র মৃত্যুর খবর জানিয়ে স্যামসাং-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে ‘এই কোম্পানিতে থাকা প্রতিটি কর্মী তার স্মৃতিকে লালন করবেন। তার কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমরা কৃতজ্ঞ।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘তার মৃত্যুতে তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং কাছের মানুষদের প্রতি আমাদের সমবেদনা। তার উত্তরাধিকার চিরস্থায়ী।’

অন্তত তিন দশক আগে বাবার কাছ থেকে স্যামসাং ইলেক্ট্রনিক্সের নেতৃত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন লি কোন হি। পরে দক্ষিণ কোরিয়ার এই কোম্পানিটিকে বিশ্বের নামকরা এক ব্রান্ডে পরিণত করেন তিনি। শুধু তাই নয়, ২০১৪ সালে তার শয্যাশায়ী হওয়ার সময় বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্মার্টফোন, টেলিভিশন ও মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ছিল স্যামসাং।

স্যামসাং যখন নিজেদের গ্যালাক্সি সিরিজের ফোন বাজারে নিয়ে আসে তখন এর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপল-এর আইফোন এবং গুগলের অ্যান্ড্রয়েড ফোনের স্ক্রিন ও মাইক্রোচিপও স্যামসাংই সরবরাহ করত।

দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতেও দারুণ ভূমিকা রেখেছে স্যামসাং। এশিয়ার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া চতুর্থ বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হওয়ার পেছনে স্যামসাং-এর ভূমিকা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য ছাড়াও জাহাজ নির্মাণ শিল্প, জীবন বীমা, অট্টালিকা ও বিনোদন পার্ক নির্মাণ কাজেও জড়িত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারে থাকা মোট মূলধনের ২০ শতাংশই স্যামসাং-এর মালিকানাধীন।

মৃত্যুর আগে বিপুল পরিমাণ সম্পদও রেখে গেছেন লি কোন হি। ২০১৭ সালে পরিচালিত ফোর্বসের এক জরিপ অনুযায়ী, সেই সময়টিতে লি কোন হি’র মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ১৬ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে এক জটিল সময় পাড়ি দিচ্ছে স্যামসাং। ঠিক এই সময়টিতে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেন প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার লি কোন হি।

ঝুঁকি, জটিলতা ও সন্ন্যাসী রাজা

সিউলে উঁচু দেয়াল ঘেরা নিজের বাসস্থান থেকে কোম্পানির সদরদপ্তর পরিদর্শনে খুব কমই বের হতেন লি কোন হি। স্যামসাং-এর মতো বিশাল টেক সাম্রাজ্যের অধিপতি হয়েও গণমাধ্যমে কালেভদ্রে কথা বলতেন। নিঃসঙ্গ জীবন-যাপনে তিনি অভ্যস্ত ছিলেন। এমন চলাফেরার জন্যই স্যামসাং তথা টেক দুনিয়ার সন্ন্যাসী রাজা হিসেবে তিনি পরিচিত।

২০১৪ সালে লি কোন হি হার্ট অ্যাটাকে শয্যাশায়ী হওয়ার সময় স্মার্টফোনের বাজারে বিপুল লাভে থাকা স্যামসাং-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু করে চীনা উঠতি কিছু কোম্পানি। ফলে হার্ডওয়্যার ব্যবসায় নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে বিপুল চাপের মুখে ছিল কোম্পানিটি। পরে ২০১৬-১৭ সালে একটি দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে যায় স্যামসাং। এই কেলেঙ্কারিতে যুক্ত থাকার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন হাই অভিশংসনের মুখোমুখি হন। পরে তাকে জেলেও যেতে হয়। এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি হন লি কোন হি’র ছেলে লি জায়ে ইয়ং। অভিযোগ ছিল কোম্পানির নেতৃত্ব বাবার কাছ থেকে ছেলের কাছে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ করতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার জন্য ঘুষ নিয়েছিলেন পার্ক গিউন। স্যামসাং-এর প্রতিষ্ঠাতা লি বিয়ং চল-এর তৃতীয় সন্তান ছিলেন লি কোন হি। অনেকদিন ধরেই তিনি তার সন্তান লি জায়ে ইয়ংকে স্যামসাং-এর নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তৈরি করছিলেন। কিন্তু কোম্পানির উত্তরাধিকার প্রশ্নে নানাবিধ আইনি জটিলতা দেখা দেয়।

আইনি জটিলতার মধ্যে পড়েছিলেন স্যামসাং-এর সদ্যপ্রয়াত চেয়ারম্যানও। জানা যায়, ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্টকে ঘুষ প্রদান করেছিলেন লি কোন হি। পরে ২০০৮ সালেও তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে দুই অপরাধ থেকেই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

খুব কঠোর মনোভবের ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন লি কোন হি। স্যামসাং কোম্পানি পরিচালনায় সবসময় প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রেখেছিলেন তিনি। তার দূরদর্শী কিছু পদক্ষেপ বিশ্ব প্রযুক্তিতে অনেক বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। ২০০৮ সালে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার সময়ও কোম্পানির উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বিলিয়ন ডলারের ঝুঁকি নিয়েছিলেন তিনি। এই ঝুঁকিই বিশ্বের বুকে স্যামসাং-এর যুগান্তকারী উত্থানে ভূমিকা রেখেছে।

বাবার নির্মিত প্রতিষ্ঠান

১৯৪২ সালের ৯ জানুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার দায়েগু শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন লি কোন হি। দক্ষিণ কোরিয়ায় জাপানি উপনিবেশ চালু ছিল সেই সময়। জন্মের ১৪ বছর আগে ১৯৩৮ সালে তার পিতা লি বিয়ং চল স্যামসাং প্রতিষ্ঠা করেন। কোরিয়ার তৎকালীন সু ডং (বর্তমান ইংগডং) শহরে তিন তলা একটি ভবনে ৪০ জন কর্মচারী নিয়ে মাত্র ১৭ ডলারের সমপরিমাণ কোরিয়ান মুদ্রা বিনিয়োগ করে স্যামসাং-এর যাত্রা শুরু। সে সময় কোম্পানির উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় বাজারে ছোটখাটো মুদি ব্যবসা করা আর সেই সঙ্গে স্থানীয় নানা পণ্য বাইরে রপ্তানি করা। মূলত নুডলস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী তৈরি করে কোরিয়ার খাদ্য সমস্যা দূর করাই ছিল এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য।

ধনী পরিবারের সন্তান ছিলেন লি বিয়ং চল। তাকে টোকিওর ওয়াসেডা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল পড়াশোনার জন্য। কিন্তু পড়াশোনা শেষ না করেই তিনি বাড়ি ফিরে আসেন এবং পারিবারিক বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত হন। এভাবে এক সময় স্যামসাং প্রতিষ্ঠা করেন। স্যামসাং শব্দটির অর্থ হলো- তিন তারকা। লি বিয়ং চল তার কোম্পানির এই নাম দিয়েছিলেন কারণ ‘তিন’ সংখ্যাটিকে কোরিয়ায় শক্তি ও একতার প্রতীক মনে করা হয়। আর ‘তারকা’ হলো অবিনশ্বরতার প্রতীক। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও দেশের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার জন্য স্যামসাংকে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোরিয়ায় জাপানি ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে। এ সময় লি বিয়ং চল তার কোম্পানির সদর দপ্তর সিউলে স্থানান্তর করেন। খুব দূরদর্শী লি বিয়ং চল ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে এমন মানুষদের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করতেন। ফলে নানা বিপদ-আপদ ও কোরিয়ান যুদ্ধের মধ্যেও স্যামসাংকে তিনি এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। একবার সিউলে আক্রমণ হলে তিনি তার কোম্পানির সদর দপ্তর সেখান থেকে সরিয়ে উত্তর কোরিয়াতেও নিয়ে গিয়েছিলেন।

কোরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় তাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। কোম্পানির শুরুর দিকে প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনের কোনো চিন্তাই ছিল না লি বিয়ং চল-এর। ১৯৫০-৫৩ সালে কোরিয়ান যুদ্ধের বেশ কয়েক বছর পর ১৯৬০ সালে প্রথমবারের মতো ইলেক্ট্রনিক্স ও গৃহস্থালির ব্যবহার্য নানা পণ্য উৎপাদন শুরু করে স্যামসাং। ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য উৎপাদনের শুরুর দিকে স্যামসাং-এর প্রধান পণ্য ছিল সাদাকালো টেলিভিশন। পরে মাইক্রোচিপ সেমিকন্ডাক্টর নির্মাণে হাত দেয় তারা। একে একে কম্পিউটার, টেলিফোন, ফ্যাক্স মেশিন ইত্যাদি নানা কিছু উৎপাদন শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি স্যামসাংকে। বর্তমানে যদি প্রশ্ন করা হয়- প্রযুক্তি খাতে কোন পণ্যটি উৎপাদন করেনি স্যামসাং, তবে সেই তালিকাটি খালিই থাকবে। কারণ স্মার্টফোনের ক্ষুদ্র চিপ থেকে শুরু করে রকেটের ইঞ্জিন, রোবট থেকে শুরু করে সামরিক বাহিনীর ট্যাংক সবই নির্মাণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া বায়ো-টেকনোলজি, মেডিকেল টেকনোলজি, জাহাজ শিল্প, ব্যাংক, বীমা, খাদ্যশিল্প সব ক্ষেত্রেই তাদের সরব উপস্থিতি। স্থাপত্য শিল্পের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক হিসেবে স্যামসাং-এর অবস্থান বর্তমানে ১৩তম। বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় তিনটি স্থাপনা- আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত বুর্জ খলিফা, তাইওয়ানের তাইপে-১০১ এবং মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার নির্মাণের পেছনেও রয়েছে স্যামসাং।

স্যামসাং-এর ইতিহাসে প্রথম বড় ধাক্কাটি আসে ১৯৮৭ সালে, যখন কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা লি বিয়ং চল মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয় লি বিয়ং চলের তৃতীয় সন্তান সদ্যপ্রয়াত লি কোন হি’র সুনিপুণ নেতৃত্বে। পিতার মৃত্যুর পর কোম্পানির নেতৃত্ব নিজের হাতে নিয়েছিলেন তিনি। তার হাত ধরেই স্যামসাং-এর নতুন যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে লি কোন হি’র এক ভাই স্যামসাং-এর একটি বড় অংশের মালিকানা দাবি করে মামলা করলেও তিনি হেরে যান এবং কোম্পানির ওপর লি কোন হি’র একচ্ছত্র নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৭ সালের দিকে স্যামসাংকে টেলিভিশন উৎপাদনের ক্ষেত্রে জাপানি প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু লি কোন হি ধীরে ধীরে স্যামসাংকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলেন। তার নেতৃত্ব নেওয়ার পরই মাইক্রোওয়েভ আর ফ্রিজ উৎপাদন ও রপ্তানি শুরু করে স্যামসাং।

বদলে দেন সবকিছু

লি কোন হি’র নেতৃত্বেই ১৯৯৩ সালে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটায় স্যামসাং। সেবার প্রতিষ্ঠানের দেড় লক্ষাধিক মোবাইল ডিভাইস আর ফ্যাক্স মেশিন পুড়িয়ে ফেলা হয়। এই ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল- কোম্পানির জনশক্তিকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। সে বছর বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ঘুরে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নিয়েছিলেন লি কোন হি। তার এই ভ্রমণ স্যামসাং-এর গতিপথ বদলে দিতে সহায়তা করে। এর মধ্য দিয়ে আধুনিক ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য উৎপাদনের সাম্রাজ্যে প্রবেশ করে স্যামসাং। কোম্পানির কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে সে সময় লি কোন হি বলেছিলেন, ‘আসুন নিজেদের স্ত্রী ও সন্তান ছাড়া বাকি সবকিছুকেই আমরা বদলে দিই।’

পরের দশকে এশিয়ায় অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলেও স্যামসাং-এর ওপর এর কোনো প্রভাব পড়েনি। ১৯৯৮ সালে সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে একটি ডিজিটাল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন লি কোন হি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে আরেক টেক জায়ান্ট জাপানের সনি’কে টপকে যায় স্যামসাং। এরপর সনি কোম্পানি আর কখনোই স্যামসাং-এর ওপরে উঠতে পারেনি।

কোম্পানির সফলতার পেছনে আছে অনেক ব্যর্থতার গল্পও। ২০১৩ সালে নতুন প্রযুক্তির ওয়াশিং মেশিন উৎপাদন ও বাজারজাত করে স্যামসাং। শুধু তাই নয়, এই পণ্যটির বিজ্ঞাপন ও বিপণনের পেছনে প্রায় বিলিয়ন ডলার খরচ করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই কয়েকটি সেলস সেন্টার থেকে অভিযোগ আসে ওয়াশিং মেশিনটিতে আগুন ধরে যায়। ফলে কোম্পানির স্বার্থে বাজার থেকে সমস্ত ওয়াশিং মেশিন উঠিয়ে নিয়ে এগুলোকে নষ্ট করা হয়। এর আগে ১৯৯০-এর দশকেও স্যামসাং-এর গাড়ি নির্মাণ শিল্প রিনাল্ট কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন লি কোন হি। বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাণে খুব আগ্রহী ছিলেন তিনি। কিন্তু এই শিল্পটি স্যামসাংকে বিপুল পরিমাণ ঋণখেলাপির পথে নিয়ে গিয়েছিল।

২০১৪ সালে লি কোন হি’র শয্যাশায়ী হওয়ার বছরেও স্যামসাং-এর মোট রেভিনিউ ছিল ৩০৫ বিলিয়ন ডলার। এ সময় তাদের নিকটতম টেক জায়ান্ট অ্যাপলের রেভিনিউ ছিল ১৮৩ বিলিয়ন ডলার আর গুগলের ছিল মাত্র ৬.৬ বিলিয়ন ডলার। তবে, পরে বছর ২০১৫ সালে স্যামসাং-এর রেভিনিউ কিছুটা কমে যায়। প্রতিষ্ঠানটিতে সে সময় শ্রমিকের সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখের কাছাকাছি। যা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপল, মাইক্রোসফট আর গুগলের মোট শ্রমিক সংখ্যার চেয়েও বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত