ঢাকার ধামরাইয়ে এক গৃহবধূর কোমরে রশি দিয়ে গাছে বেঁধে ও পায়ে শেকল পরিয়ে নির্যাতনের অভিযোগের মামলায় স্বামী নুরুল করিম কাঞ্চনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দ্বীপক চন্দ্র সাহা।
এর গত বুধবার উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়নের বেলীশ্বর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে ওই গৃহবধূকে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ চারজনের নাম উল্লেখ করে ধামরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেপ্তার স্বামী নুরুল করিম কাঞ্চন সূতিপাড়া ইউনিয়নের বেলীশ্বর গ্রামের মৃত রহিজ উদ্দিনের ছেলে।
তিনি মানিকগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অফিসের টেকনিশিয়ান পদে কর্মরত রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিরা হলেন- নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর দেবর রফিকুল ইসলাম অলিদ, জা শাহনাজ চৌধুরী ও স্বামী কাঞ্চনের প্রথম স্ত্রীর ছেলে হৃদয় চৌধুরী।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বেলীশ্বর গ্রামের রফিকুল ইসলাম কাঞ্চনের পূর্বের দুই স্ত্রী মারা যায়। প্রথম স্ত্রীর ঘরের হৃদয় নামে এক সন্তান আছে। এরপর নয় বছর আগে হাতকোড়া গ্রামের ভুক্তভোগীকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন কাঞ্চন।
বিয়ের পর ভুক্তভোগী ওই নারীও ছেলে সন্তানের মা হন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্বামী কাঞ্চন ও তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে চাপ দিতে থাকে।
কিন্তু তাদের দাবিকৃত পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক না দেয়ায় ওই গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
নির্যাতন সইতে না পেরে বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগী তার বাবার বাড়িতে চলে যেতেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাবার বাড়ি থেকে নগদ ৩ লাখ টাকা স্বর্ণালংকার এনে স্বামীকে দিলেও যৌতুকের বাকি ২ লাখ টাকার জন্য ওই গৃহবধূকে চাপ দেয়া হচ্ছিল।
এরই জেরে গত বুধবার গৃহবধূ নাছিমাকে গাছে বেঁধে ও পায়ে শেকল পরিয়ে নির্যাতন করা হয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে গৃহবধূর বাবা-মা ও স্বজনদের খবর দেন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্বজনরা।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর মা জানান, অনেক আগে থেকেই তার মেয়েকে যৌতুকের টাকার জন্য নির্যাতন করতো স্বামী কাঞ্চন ও তার পরিবারের সদস্যরা।
এছাড়াও কাঞ্চনের একাধিক নারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। যা তার মেয়ে পরবর্তীতে বুঝতে পারায় তার উপর নির্যাতন করা হতো।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ মামলায় তার স্বামীসহ চারজনকে আসামি করলে রাতেই বেলীশ্বর এলাকা থেকে স্বামী কাঞ্চনকে গ্রেপ্তার করেছেন তারা।
শুক্রবার দুপুরে আসামিকে ঢাকার মুখ্য বিচারিক আদালতে পাঠানোর পাশাপাশি মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
