অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় আহতদের জীবন বাঁচিয়েছেন তিন মুসলিম যুবক। সোমবারের ওই হামলায় এক বন্দুকধারী ভিয়েনার প্রাণকেন্দ্রে গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করে। বাকি আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে তিন মুসলমান যুবক।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তাদের একজন ওসামা আবু আল-হোসনা বলেন, সোমবার সকালে আমি আমার কর্মস্থল ম্যাক ডোনালডস এর দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ আমি গুলির শব্দ শুনতে পেলাম। হামলাকারী আমার কাছ থেকে প্রায় ২০ মিটার দূরে ছিল। হামলাকারী এ সময় এক পুলিশ সদস্যকে গুলিতে আহত করে।
ফিলিস্তিনি যুবক হোসনা বলেন, আমরা প্রথমে একটি গাছ ও পরে একটি বেঞ্চের আড়ালে লুকিয়ে পড়ি। আমরা তখন আহত পুলিশ সদস্যকে এক পাশে টেনে নিয়ে আসিস। আমি প্রথমে হাত দিয়ে তার ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বের হওয়া বন্ধ করার চেষ্টা চালাই। পরে আমার জ্যাকেট খুলে তা দিয়ে তাকে ঢেকে দিই। তখনো হামলাকারী আমাদের কাছেই ছিল। এর ১৫ মিনিট পর অ্যাম্বুলেন্স এসে পৌঁছায়।
তিনি জানান, তবে অ্যাম্বুলেন্স থেকে কেউ আহত পুলিশ সদস্য নিতে এগিয়ে আসছিল না। তারা খুব ভীত হয়ে পড়েছিল। তখনই দুই যুবক এগিয়ে আসে সাহায্য করতে।
এরপর দুই তুর্কি যুবক এগিয়ে আসে। তারা হলো মিকাইল ওজেন (২৫) এবং রিসেপ গুলতেকিন (২১)।
এর আগে তারা এক আহত বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে। তারপর তারা সেই পুলিশ সদস্যের দিকে এগিয়ে আসে। গুলি চলতে থাকা অবস্থায় তারা উদ্ধার কাজ চালিয়ে যায়।
ভিয়েনার মেয়র তিন যুবককে ধন্যবাদ জানান। তুরস্কের দুই যুবকের প্রশংসা করেন রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
তবে শুরুতে গুলতেকিন হামলায় জড়িত বলে খবর প্রচার হয়। তবে গুলতেকিন নিজের ইনস্টাগ্রাম থেকে জানান, তিনি একজন নারী এবং একজন পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করেছেন।
ওজেনের পর আল জাজিরাকে বলেন, আমরা মুসলিম, তুরস্ক বংশোদ্ভূত। আমরা অস্ট্রিয়ান নাগরিক, এখানে আমরা কোনো রাজনীতি কর আসিনি।
মঙ্গলবার যে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশি দ্বৈত নাগরিক আছে বলে রয়টার্সসহ অস্ট্রিয়ার গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে।
তাদের বয়স ১৮ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে বলে বলা হচ্ছে। ১৮টি বাড়ি তল্লাশি করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ভিয়েনার পুলিশ প্রধান গেরহার্ড পুয়ার্স্টেল সংবাদমাধ্যমকে জানান, আটকদের মধ্যে কয়েকজনের বাংলাদেশ, উত্তর মেসেডোনিয়া, তুরস্ক বা রাশিয়ার দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে।
ওই বন্দুকধারী একাই হামলা চালিয়েছে বলে জানা যায়। তবে হামলার এই ঘটনা নিয়ে অস্ট্রিয়া ও স্লোভাকিয়ার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে বড় ধরনের বিভ্রান্তির বিষয়টিও গণমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল নেহামার বুধবার সাংবাদিকদের বলেছেন, মোবাইল ফোনের ফুটেজ নিশ্চিত করেছে যে সোমবার ভিয়েনায় বন্দুকধারী একাই ওই চারজনকে হত্যা করেছিল। সে ছিল অস্ট্রিয়ার নাগরিক।
