আরও একবার শিরোপা জিততে ব্যর্থ হলো বিরাট কোহলির দল। শিরোপা কি এবার ফাইনালেই উঠতে পারল না তারা। শুক্রবার রাতের এলিমিনেটরে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে বেঙ্গালুরু। আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে মাত্র ১৩১ রান করেন কোহলিরা। সহজ লক্ষ্য সহজেই টপকে কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নিয়েছে হায়দ্রাবাদ। এ নিয়ে অষ্টম মৌসুম কোহলির নেতৃত্বে শিরোপা জিততে ব্যর্থ বেঙ্গালুরু। তাই এবারও কোহলির নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। এবার সাবেক দুই ভারতীয় ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীর ও সঞ্জয় মাঞ্জরেকার বেঙ্গালুরুতে নেতৃত্বের পরিবর্তন চাইছেন।
কোহলি দলটির নেতৃত্বে আছেন ২০১৩ সাল থেকে। এই ৮ মৌসুমে এবার নিয়ে তিনবার প্লে অফে খেলে মাত্র একবার (২০১৬) ফাইনাল খেলেছে তারা। কোহলি অধিনায়ক হওয়ার আগে পাঁচ মৌসুমে দলটি ফাইনাল খেলেছে দুবার (অনিল কুম্বলে ও ড্যানিয়েল ভেট্টোরির অধিনায়কত্বে)। গৌতম গম্ভীর বলেছেন, ‘এই ব্যর্থতার দায় অবশ্যই নিতে হবে কোহলিকে। আট বছর নেতৃত্ব দিয়েও ট্রফি নেই, আট বছর অনেক সময়। আমাকে বলুন, অন্য কোনো অধিনায়ক, অধিনায়কের কথা বাদই দিলাম, অন্য কোনো খেলোয়াড় আট বছর খেলে শিরোপা না জিতলে তাকে কি রাখা হতো? ব্যাপারটা দায়িত্ববোধের। অধিনায়ককে দায়িত্ব নিতেই হবে।’
ভারতের অন্যান্য তারকা ও অন্য দলগুলোর উদাহরণ টেনে দু’বারের আইপিএলের শিরোপাজয়ী অধিনায়ক গম্ভীর বলেন, ‘আট বছর অনেক অনেক লম্বা সময়। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের দিকে তাকান, দুই বছরের নেতৃত্বে (কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব) সাফল্য না পাওয়ায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রোহিত শর্মা মুম্বাইকে চারটি ট্রফি এনে দিয়েছে, ধোনি চেন্নাইকে এনে দিয়েছে তিনটি। এ জন্যই এত লম্বা সময় নেতৃত্বে আছে। এমন নয় যে কোহলি অভিজ্ঞ নয়। সে ভারতের অধিনায়ক অনেক দিন ধরে। যেখানেই খেলে, সে অধিনায়কত্ব করে। কিন্তু তাকে ফল এনে দিতে হবে। সাফল্য পেতে হবে।’
আরেক সাবেক ভারতীয় ব্যাটসম্যান ও ধারাভাষ্যকার মাঞ্জরেকারের মতে, ‘দায়িত্বটা অধিনায়কের নিজের নয়, মালিকপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, তারাই অধিনায়ক নিয়োগ দেয় এবং সিদ্ধান্ত নেয় দলের জন্য কোন ধরনের নেতৃত্ব প্রয়োজন। দৃশ্যপট বদলাতে হলে, ফল বদলাতে হলে অধিনায়ক বদলাতে হবে। আমার এই আশা নেই যে কোহলি নিজে থেকেই বলবে ‘আমি পারিনি’, দায়িত্বটি মালিকদের।’
এদিকে আজকের কোয়ালিফায়ারে দিল্লি ক্যাপিটালসের চেয়েও আত্মবিশ্বাসী হয়ে নামছে হায়দ্রাবাদ। ডেভিড ওয়ার্নার নিজেদের শেষ চার ম্যাচের সবকটিতে জিতে এসেছে। টানা জয়রথ ছুটিয়ে পঞ্চম ম্যাচে জিতলেই দ্বিতীয় শিরোপার কাছে চলে যাবেন ওয়ার্নাররা। অন্যদিকে দিল্লির জন্য এ ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজ জিতলে প্রথমবারের মতো আইপিএল ফাইনালে খেলবে তারা। চলতি মৌসুমের ফর্ম ধরে এবার দিল্লি নিজেদের ফাইনালের গেরো খুলতে পারবে না আবারও এ পর্যন্তই তাদের থামতে হচ্ছে সেটাই দেখার।
