বুড়িমারীতে পুড়িয়ে হত্যা: জুয়েলের পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৫৯ পিএম

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আবু ইউনুস মো. সহিদুন্নবী জুয়েলকে (৫০) পিটিয়ে ও পরে আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় আরও ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ছাড়া আবু ইউনুস মো. সহিদুন্নবী জুয়েল হত্যা ও সরকারি কাজে বাঁধা ও পুলিশকে মারধর মামলার ১ নম্বর আসামি আবুল হোসেন ওরফে হোসেন আলীকে ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

সোমবার তাকে আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাট ডিবি পুলিশের ওসি ওমর ফারুক।

এদিকে জুয়েলের পরিবারকে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন। রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে নিহতের পরিবারের হাতে সহায়তার চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর।

নতুন গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে হাসানুর রহমান (২৪), আব্দুর রহিম (২২) ও সোহেল মিয়াকে  (২০) জুয়েল হত্যা মামলায় এবং মাইনুল ইসলাম (২৬) কে সরকারি কাজে বাঁধা ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রবিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুমন কুমার মহন্ত।

এ নিয়ে বুড়িমারীতে ওই ঘটনায় দায়েরকৃত ৩টি মামলায় মসজিদের খাদেমসহ মোট ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার পর্যন্ত গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৩ জন দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক  জবানবন্দি দিয়েছেন। আর ২টি মামলার ১ নম্বর আসামি আবুল হোসেন ওরফে হোসেন আলীকে শনিবার ভোরে রাজধানীর ভাটারা থানার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ গ্রেপ্তার করে।

লালমনিরহাট ডিবি পুলিশের ওসি ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২টি মামলার (হত্যা ও পুলিশের ওপর হামলা) এক নম্বর আসামি আবুল হোসেন এখন আমাদের হেফাজতে রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে নিহত জুয়েলের মেয়ে জেবা তাসনিয়াকে রবিবার ২০ হাজার টাকা অনুদানের চেক প্রদান করেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর। এ সময় নিহত জুয়েলের বড় ভাই রংপুর কারমাইকেল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু ইউসুফ মো. তৌহিদুন্নবীসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত