সংসদে আইনমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু বিচারকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে গেছেন

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২০, ০২:০৬ এএম

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আইনের শাসনের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ছিল অগাধ বিশ্বাস। আদালতের প্রতি ছিল গভীর আস্থা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ছিল তার দৃঢ়তা। তিনি সংবিধানের ৯৪-এর ৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারকার্যে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের স্বাধীনতার কথা নিশ্চিত করে গেছেন। গতকাল বুধবার মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে উপলব্ধি করেছিলেন যে মানুষের দুর্দশা লাঘবের শেষ আশ্রয়স্থল হচ্ছে আদালত। তাই তিনি সংবিধান প্রণয়নের সময় বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দিয়ে সংবিধানে স্থান দিয়েছিলেন। বিচারপ্রাপ্তিতে জনগণের যেন কোনো দুর্ভোগ পোহাতে না হয়, সে জন্য তিনি সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে বিচার বিভাগ পৃথককরণের কথা বলেছেন।

আনিসুল হক বলেন, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর বিচার বিভাগের সেই পৃথককরণ ও স্বাধীনতা স্বপ্নই রয়ে গিয়েছিল। যদিও মাজদার হোসেন মামলার রায়ের পথ ধরে ২০০০ সালের ১ নভেম্বর বিচার বিভাগ পৃথককরণ হয়। কিন্তু পৃথক কোনো ভৌত অবকাঠামো ছিল না বলে তা সম্পূর্ণ কার্যকর হতে পারেনি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর ২ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সারা দেশে ১২তলাবিশিষ্ট চিফ জুডিসিশয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, ১৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আগের জেলা জজ ও দায়রা জজ আদালত ভবনগুলো ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, বিচারকদের প্রায় ১০০ ভাগ বেতন বৃদ্ধি এবং তাদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ৩৭১টি গাড়ির ব্যবস্থা করে বিচার বিভাগের পৃথককরণ শুধু অর্থবহই করেননি, জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম করেছেন। এটিই হচ্ছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা কর্র্তৃক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারই বাংলাদেশের দক্ষ জুডিসিয়ারি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডিজিটাইজেশনের কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি বিগত মাত্র সাড়ে ৩ বছরে অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান ও ভারতে ৭৫৪ জন বিচারককে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে নতুন নতুন আদালত, ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠাসহ অধস্তন আদালতে ১ হাজার ১২৮ জন বিচারক নিয়োগ দিয়েছেন।

আনিসুল হক বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছিল গভীর মমত্ববোধ। তিনি দেশের মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে জয় করে নিয়েছিলেন এবং বাংলার মানুষও তাকে সবকিছু দিয়ে ভালোবেসেছিল। কিংবদন্তি নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে আমরা শপথ নিই যে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে সোনার বাংলা গড়ে তুলব। বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমাদের ঋণ শোধ করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত