সংকটে জবুথবু হাসপাতাল অনাদর অবহেলায় রোগীরা

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৩৪ এএম

নানা সংকট নিয়ে কোনোমতে চলছে মানসিক রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ‘জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল’। রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এই হাসপাতালের বয়স ২০ বছর। অথচ এখানে কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই। একটি পুরনো জিপ গাড়িকে অ্যাম্বুলেন্সে রূপ দিয়ে কোনোমতে বহন করা হচ্ছে রোগী। চারটি গাড়ি। গাড়িচালক মাত্র একজন। আনসার বা নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় হাসপাতাল থেকে রোগী পালিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।

আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাও অপ্রতুল এখানে। গার্ড কম থাকায় ওয়ার্ডের ভেতর উত্তেজিত রোগীদের নিবৃত্ত করা সম্ভব হয় না। ফলে রোগীরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে মারাত্মক আহত হন। বাধ্য হয়ে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ রোগীর সঙ্গে একজন স্বজন থাকা বাধ্যতামূলক করেছেন। কিন্তু অধিকাংশই গরিব রোগী হওয়ায় রোগীর সঙ্গে থাকার লোক পাওয়া যায় না। আবার গার্ড বা স্টাফ কম হওয়ায় ওয়ার্ডে রোগী দেখভালও সম্ভব হয় না। ফলে দিনের পর দিন এখানে রোগীদের এক ধরনের অনাদর ও অবহেলায় পড়ে থাকতে হচ্ছে। 

একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতালে হলেও এখানে সর্বোচ্চ মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ‘ভায়োলেন্ট’ বা ‘অস্থিরতা’ রোগীদের চিকিৎসার আধুনিক কোনো ব্যবস্থা নেই। এসব রোগীকে শান্ত বা নিবৃত্ত করতে নেই কোনো ভায়োলেন্ট রুম। এখনো গতানুগতিক পদ্ধতিতেই খাটের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখা হয় মেঝেতে। জোরজবরদস্তি করে শান্ত করতে গিয়ে কখনো কখনো নির্যাতনের অভিযোগও ওঠে।

রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এই হাসপাতালে এমআরআই মেশিন নেই। ১২ বছরের পুরনো একটি সিটিস্ক্যান মেশিন বেশিরভাগ সময়ই নষ্ট থাকছে। সর্বশেষ গত তিনদিন ধরে মেশিনটি কাজ করছে না। 

২০০ শয্যার এই হাসপাতালে কেবিন মাত্র দুটি। প্রতি কেবিনে দুজন রোগী। অল্প পরিসর একটি ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে ৭০ জন করে রোগী। এক কক্ষে ৮-১০ জন। ফলে একজন মানসিক রোগী উত্তেজিত হলে ওয়ার্ডের অন্য রোগীরাও উত্তেজিত হয়ে পড়েন। নিজেদের মধ্যে মারামারি বাধান। হামলার মারাত্মক আহত হন। এমনকি চার-পাঁচজন মিলে একজনকে পিছমোড়া করে বেঁধে মেঝেতে ঠেসে ধরে রাখতেও দেখা গেছে।

হাসপাতালের সি-ব্লকের তিন তলায় মহিলা ওয়ার্ডের গেটে কর্তব্যরত এক নারী স্টাফ নিজের নাম না বলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, লোকজন কম থাকায় আমরাও ওদের কাছে যেতে পারি না। আবার এসব রোগীর বেশিরভাগই গরিব হওয়ায় ওদের লোকজনও ওদের সঙ্গে থাকে না। এমনকি একবার রেখে গেলে আর নিতেও আসে না কেউ।

এই ওয়ার্ডের তালাবদ্ধ গেটের ভেতর দাঁড়িয়ে ছিলেন মাঝবয়সী এক রোগী। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে তিনি স্বাভাবিকভাবেই নিজের নাম পারভীন ও ঠিকানা ময়মনসিংহের বাঁশতলা গ্রাম বলে জানালেন। বাড়ি যাবেন না- জানতে চাইলে পারভীন কিছু বলেন না। গেটের নারী গার্ড জানান, ২৫ দিন হলো এই নারী এই হাসপাতালে আছেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ। চিকিৎসকরা তাকে ছেড়ে দেবেন। কিন্তু যারা তাকে রেখে গেছেন বা রোগীর লোকজন তাকে নিতে আসছেন না। এখন পারভীন আর বাড়ি যেতে চান না। কিছু বললেই বলেন, এটাই তার বাড়ি।

গত বুধবার সরেজমিন হাসপাতাল ঘুরে, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের এই চিত্র পাওয়া গেছে। চিকিৎসা ও দেখভালের ক্ষেত্রে খুবই অসহায়ভাবে থাকতে দেখা গেছে মানসিক রোগীদের। এমনও দেখা গেছে, গেটের সামনে রোগীর খোঁজখবর নিতে এলেও এসব স্বজন রোগীর সঙ্গে দেখা করছেন না। রোগী গেটের সামনে এলে স্বজনরা লুকিয়ে থাকছেন। চার-পাঁচজন মিলে একজন রোগীকে বেঁধে মেঝেতে ফেলে মারধর করলেও তাদের নিবৃত্ত করতে কেউ এগিয়ে আসছেন না।

এসব সংকটের কথা কিছুটা স্বীকারও করেছেন হাসপাতালের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা। তারা বলেছেন, একটি আধুনিক মানসিক হাসপাতালে যা থাকার কথা, তার অনেক কিছুই এই হাসপাতালে নেই। ওষুধ ও চিকিৎসা পেলেও মানসিক রোগীদের মারামারি বা উত্তেজনার সময় নিবৃত্ত রাখতে গার্ড বা সংশ্লিষ্ট স্টাফ খুবই কম থাকায় রোগীদের প্রতি আচরণ খুবই নির্দয় রূপ নিচ্ছে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালে পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার গত বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, চলছে মোটামুটি। কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটা ২০০ শয্যার হাসপাতাল। কাজ চলছে ৪শ শয্যার। নতুন ভবনের দায়িত্ব পেলে শয্যা অনুপাতে আমরা চিকিৎসকসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেব।

এই পরিচালক আরও বলেন, সাময়িকভাবে বিশৃঙ্খল হয়ে আছে। যেহেতু কাজ চলছে। করোনার জন্য বেড ফাঁকা রাখতে হচ্ছে। যখনই আমরা কোনো রোগীকে সন্দেহ করছি করোনার জন্য, তখন তাকে আইসোলেট করতে হচ্ছে। এই কারণে কিছু বেড ফাঁকা রাখতে হচ্ছে করোনা রোগীর জন্য। আউটডোরে দৈনিক প্রায় ৩শ রোগী আসছে। ইমার্জেন্সি বিভাগ চালু আছে। করোনা মহামারীর সময়ও চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু ছিল।

পরিচালক বলেন, এমআরআই মেশিন আগে ছিল না। নতুন বসেছে। চালু হয়ে যাবে এ মাসেই। সিটিস্ক্যান দুদিন হলো বন্ধ। একটা যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। কোম্পানির লোকজন এসে দেখে গেছে। ঠিক হয়ে যাবে। এরকম টুকটাক সংকট তো লেগেই থাকে। সেটার সমাধান তো করতেই হয়।

 নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, সবচেয়ে বেশি দরকার ভায়োলেন্ট রুম। কারণ মানসিক রোগী কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করতে পারে। এমন একটা রুম রাখা হয় যেখানে রোগী নিজেকে আঘাত করতে বা ক্ষতি করতে পারবে না। রুমে সিলিং ফ্যান থাকে না। এসি থাকে। জানালার গ্রিল থাকে না। ক্যামেরা থাকে, যেটা দিয়ে বাইরে রোগীর গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়। টু ওয়ে কমিউনিকেশন থাকে। রোগী কী বলে তা বাইরে থেকে শোনা যায়। কিন্তু এই হাসপাতালে এরকম কোনো রুম নেই। এখানে এখনো এই ধরনের রোগীদের ম্যানুয়াল (গতানুগতিক) পদ্ধতিতে চিকিৎসা চলছে। অর্থাৎ হাত-পা বেঁধে বা জোরজবরদস্তি করে তাদের ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে। শান্ত রাখা হচ্ছে।  

এ ব্যাপারে হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তারিকুল আলম সুমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের এখানে প্রচুর ভায়োলেন্ট রোগী আসে। আমাদের নতুন যে অবকাঠামো হচ্ছে, সেখানে আধুনিক পদ্ধতির ভায়োলেন্ট রুম করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, চতুর্থ শ্রেণির লোকবলের খুব সংকট। রোগীর সঙ্গে অ্যাটেনডেন্ট থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কারণ আমাদের পক্ষে রোগীকে রাখা সম্ভব হয় না। অথচ অ্যাটেনডেন্ট বাধ্যতামূলক করার কারণে অনেক রোগীকে আমরা রাখতে পারি না। কারণ অনেক রোগীর সঙ্গে থাকার মতো কেউ নেই। আমাদের যদি প্রয়োজনীয় জনবল থাকত, তাহলে নিজেদের জনবল দিয়ে রোগীকে দেখতে পারতাম, সব রোগীকেই ভর্তি করাতে পারতাম। বিশেষ করে রোগী যখন ভায়োলেন্ট হয় বা রোগীর সঙ্গে থাকার মতো লোকজন থাকে না, তখন একজন-দুজন লোক দিয়ে কাজ হয় না। আমাদের এক শিফটে দুজন স্টাফ থাকে। একটা ওয়ার্ডে রোগী থাকে ৭০ জন। অর্থাৎ ৩৫ জন রোগীকে সামলাতে একজন স্টাফ। এটা খুব কঠিন। যারা রোগী নিয়ে আসেন, তাদের পক্ষে সার্বক্ষণিক একজন লোক রাখাও কঠিন।

এই চিকিৎসক জানান, নার্স আছে। কিন্তু নার্স দিয়ে একজন রোগীকে ফোর্স করা, রিস্ট্রেন্থ করা, নিবৃত্ত করা সম্ভব নয়।

এক মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জানান, এখানে প্যাথলজি বিভাগের কোনো পদ নেই। নতুন একটি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে ও নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ডা. তারিকুল আলম সুমন বলেন, একটি মানসিক হাসপাতালে গাইনি, শিশু রোগসহ অন্যান্য সাধারণ রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থাও থাকা দরকার। এখানে সেটা নেই। তবে নতুন যে অবকাঠামো হচ্ছে, আমরা সেখানে এ-রকম একটা প্রস্তাবনা দিয়েছি। কারণ একজন মানসিক রোগীর সাধারণ রোগের জন্য তাকে যেন অন্য হাসপাতালে পাঠাতে না হয়। আমরা চেষ্টা করছি মানসিক রোগীদের অন্যান্য রোগের প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু যেন এখানে দেওয়া যায়।

একটা ওয়ার্ডে আট রোগী ও এক কেবিনে দুই রোগী এটা ঠিক কতটুকু বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থা, জানতে চাইলে ডা. তারিকুল আলম সুমন বলেন, মানসিক রোগীদের আরেকটু স্বাচ্ছন্দ্যে রাখতে পারলে ভালো। সরকারি হাসপাতাল যখন তৈরি করে, তখন সব হাসপাতাল একইভাবে তৈরি করে। কিন্তু মানসিক রোগীদের জন্য অনেক ধরনের কর্মকা- করতে হয়। সে কারণে মানসিক হাসপাতালের জন্য আরেকটু স্পেস দরকার। এটা দেড়শ বেডের হাসপাতাল ছিল। পরে আরও ৫০ বেড বাড়ানো হয়। কিন্তু সেই বেড বাড়ানোর জন্য অবকাঠামো বাড়েনি। আগের সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই চিকিৎসা ব্যবস্থা রাখতে হয়েছে।

তবে এখানে বিনামূল্যে বেডের সংখ্যা অন্য সব সরকারি হাসপাতালের চেয়ে বেশি বলে জানান এই চিকিৎসক। তিনি বলেন, বিভিন্ন ইনস্টিটিউট হাসপাতালের মতো এখানেও পেয়িং বেড ৬০ শতাংশ ও নন-পেয়িং বেড ৪০ শতাংশ ছিল। ফলে অনেক গরিব রোগীকে ফিরে যেতে হতো। আর মানসিক রোগীদের বেশির ভাগই গরিব। আমরা দীর্ঘদিন চেষ্টা করে এখানে নন-পেয়িং বেড ৭০ শতাংশ করতে পেরেছি। এসব বেডের জন্য কোনো টাকা দিতে হয় না। একজন মানসিক রোগীর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা এখানে আছে। পাশাপাশি ভর্তি রোগীর ক্ষেত্রে ওষুধ কেনাই লাগে না। এ ছাড়া খুবই গরিব রোগী তাদেরও যাওয়ার সময় সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে ওষুধ দিই।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা আরও জানান, ১২ বছরের পুরনো একটা সিটিস্ক্যান মেশিন। গত তিনদিন ধরে সেটাও নষ্ট। এমআরআই মেশিন নেই। হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর একটা মেশিন কেনা হয়েছিল। সেটাও নষ্ট অনেক বছর হলো। এখন নতুন একটা মেশিন আনা হয়েছে সিএমএসডি থেকে। সেটা স্থাপনের কাজ চলছে।  অথচ এই দুই মেশিন না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে সরকারি খরচের দ্বিগুণ বেশি দিয়ে বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে। হাসপাতালে একটা সিটিস্ক্যান করাতে খরচ দুই হাজার টাকা। সেটা বাইরে থেকে রোগীদের করতে হচ্ছে সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে। হাসপাতালে একটা এমআরআই খরচ তিন হাজার টাকা। সেটা রোগীরা বাইরে থেকে করছেন ৭০০০-৮০০০ টাকায়।

এখানে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয় ও গার্ড কারোরই ঝুঁকিভাতা নেই- উল্লেখ করে এক নার্স দেশ রূপান্তরকে বলেন, এত কম লোকবল দিয়ে তিনটি ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগে মানসিক রোগীদের সামলানো খুব কঠিন। এসব রোগী খুবই উত্তেজিত অবস্থায় থাকে। ওয়ার্ডে রোগীরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে। ভাঙচুর করে। ঝুঁকিভাতা না থাকায় কর্তব্যরত নার্স বা গার্ডরা রোগীদের নিবৃত্ত করতে এগিয়ে আসার সাহস পান না। কারণ রোগীদের হামলায় অনেক স্টাফের মারাত্মক আহত হওয়ার ঘটনাও এখানে ঘটেছে। রাতে নার্সরা ভয়ে ওয়ার্ডের ভেতর নার্সরুমে দরজা লাগিয়ে ভেতরে থাকেন। কিছুদিন আগে এক উত্তেজিত রোগীকে শান্ত করতে গিয়ে তার লাথিতে এক কর্মচারীর দাঁত পড়ে গেছে।

হাসপাতালের কর্মচারীরা আরও জানান, এখানে আনসার নেই। নিরাপত্তার অভাব। ১৪ জনের মতো পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তাদের পক্ষে ওয়ার্ড পরিষ্কার রাখা সম্ভব না। কারণ মানসিক রোগীরা সাধারণ রোগীদের মতো নন। তারা বাথরুম, মেঝেসহ পুরো ওয়ার্ড নোংরা করে রাখেন। পায়খানা-প্রস্রাব করে দেন। তিনটি ওয়ার্ডের জন্য মাত্র আটজন গার্ড। তারা ওয়ার্ডের সামনে কলাপসিবল গেটে পাহারা দেন যাতে রোগীরা বের হতে না পারেন। কিন্তু গার্ড কম থাকায় গেটে তালা দিয়ে রাখা হয়। এ সময় বাইরে বা ভেতর থেকে ঢোকা-বের হতে বেশ সমস্যা হয়। অনেক সময় গার্ড কম থাকায় রোগীরা গেটের বাইরে চলে আসেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত