ভুল স্বীকার করলে দস্যুদের পুনর্বাসন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেছেন, ‘দেশের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অগ্রগতি হওয়ায় দস্যু এবং সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে। আত্মসমর্পণকারীদের আর্থিক সহায়তা তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বাঁশখালী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ৩৪ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘জলদস্যুদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ধর্ষণের বিষয় আইনানুসারে চলবে। তবে অন্য বিষয়গুলো আমরা দেখব।’
তিনি আরও বলেন, ‘জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে বিশ্বনেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করছেন। তিনি শান্তির জন্য নোবেল পেতে পারেন। আমরা সেই অপেক্ষায় আছি।’
অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘দেশের ভালো খবর আমরা বাংলাদেশ থেকে পাই না। বিদেশের গণমাধ্যম থেকে পেতে হয়। আমরা ইতিবাচক খবরগুলো দেশের গণমাধ্যম থেকে পেতে চাই। কিছু কুলাঙ্গার দেশ-বিদেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়াচ্ছে। এসব গুজবে কান দেবেন না। মূল ধারার গণমাধ্যমে বিশ্বাস করবেন। ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
র্যাব-৭ আয়োজিত অনুষ্ঠানে খুলনা থেকে আগেই আত্মসমর্পণকারীদের নিয়ে অনলাইনে যুক্ত হয় র্যাব-৬ ও ৮। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ৯০টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও ২ হাজার ৫৬ রাউন্ড গুলি তুলে দিয়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালী এবং কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ১১টি দস্যুবাহিনীর ৩৪ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও পাবনা-১ আসনের এমপি শামসুল হক টুকু, বাঁশখালী আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের এমপি আশেক উল্লাহ রফিক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
