বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে হীরা আক্তার (১১) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে হত্যা মামলায় এক কিশোরকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. নূরে আলম এই রায় ঘোষণা করেন।
আসামি কিশোর হওয়ায় তাকে কারাগারে না রেখে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
চার্জ গঠনের সাত কর্মদিবসের মধ্যে মামলাটির বিচার কাজ শেষ করে ট্রাইব্যুনাল। আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন বিচারক।
সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. হাসান রশিদ মৃধা (১৩)। সে জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বহরবুনিয়া গ্রামের মো. তোফাজ্জেল হোসেন মৃধার ছেলে।
মাদ্রাসা ছাত্রী হীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর দুই আসামি দম্পতি মোক্তার মৃধা (৭০) ও তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৬০)। এরা দণ্ডিত হাসানের দাদা ও দাদি। জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ওই দুই আসামির বিচার চলছে।
হীরা আক্তার স্থানীয় ছাপড়াখালী গাজীরঘাট দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন এবং পশ্চিম বহরবুনিয়া গ্রামের দিনমজুর গাউস শেখের মেয়ে।
মামলার নথির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রণজিৎ কুমার মন্ডল বলেন, ২০১৯ সালের ২ জুলাই বিকেলে পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতিতে আসামিরা মাদ্রাসা ছাত্রী হীরাদের বাড়িতে ঢুকে তাকে একা পেয়ে গামছা গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার পর বিবস্ত্র করে সারা শরীরে লিপস্টিক লাগিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে চলে যায়।
ঘটনার পরদিন নিহতের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে মোরেলগঞ্জ থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ঠাকুর দাস মন্ডল তদন্তে নেমে ১৪ জুলাই আসামিদের গ্রেপ্তার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করলে ওই বছরের ১৮ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেন।
মামলাটিতে একজন আসামি শিশু হওয়ায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠায়। চলতি ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আদালতের বিচারক মামলাটির চার্জ গঠন করেন।
চার্জ গঠনের পর মোট সাত কার্যদিবসের মধ্যে বাদী বিবাদী, পুলিশ, চিকিৎসকসহ মোট নয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্যে শিশু হাসান মৃধার সম্পৃক্ততা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাকে শিশু আইন ২০১৩ এর ৩৪ ধারায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। মামলার আসামি শিশু হওয়ায় তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।
আসামি পক্ষের আইনজীবী শেখ বাহাদুর ইসলাম বলেন, আদালতের এই রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারিনি। মামলার আদেশের কপি হাতে পেলে উচ্চ আদালতে আপিল করব।
