বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৫ সালের তৃতীয় শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৫ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে ওই সময়ে যে শিক্ষার্থীর পক্ষে মামলা করা হয় তাকে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার রায়ের সার্টিফায়েড কপি (সহি মোহর নকল) হাতে পান বাদী জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম আবদুল্লাহ।
গত ২ অক্টোবর বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক কাজী কামরুল ইসলাম ওই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আদালত ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮ জন ছাত্রীকে একটি প্রশ্নের ভুল উত্তর দেওয়ার পরও তাদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার পর্যবেক্ষণ দেন। একই সঙ্গে বাদীর মেয়ে সৈয়দা তাসনিয়া বিনতে আবদুল্লাহ বর্তমানে যে শ্রেণিতে অধ্যয়নরত সেই শ্রেণিতে ভর্তি করার নির্দেশ দেন আদালত। সৈয়দা তাসনিয়া বিনতে আবদুল্লাহ বর্তমানে সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভর্তি কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক, ভর্তি কমিটির সদস্যসচিব ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ভর্তি কমিটির সদস্য সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অধ্যক্ষ, বরিশালের সিভিল সার্জন এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে আদালতের এই আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নগরীর গোঁরাচাদ দাস রোডের বাসিন্দা আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম আবদুল্লাহ বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার মেয়ে সৈয়দা তাসনিয়া বিনতে আবদুল্লাহ ২০১৫ সালে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় প্রভাতী শাখায় উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তাকে অনুত্তীর্ণ দেখানো হয়। কয়েকজন ভর্তি পরীক্ষার্থী বাদীর মেয়ের চেয়ে কম নম্বর পাওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের উত্তীর্ণ দেখায়। মামলার প্রেক্ষিতে আদালত সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রভাতি শাখার উত্তীর্ণ ১১৪টি প্রশ্ন ও উত্তরপত্র তলব করেন। পরে আদালত উত্তরপত্রগুলো পর্যালোচনা করেন।
আদালতের পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাদীর মেয়ের প্রাপ্ত নম্বর ছিলো ৩৮.৭৫। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮ জন ছাত্রী নাফিসা এশা, আয়শা সিদ্দিকা আফিয়া, সাজিয়া ইসলাম দিপা, জাকিয়া আক্তার, হুমায়রা ইসলাম, তানিশা মেহজাবিন, রায়তা রহমান এবং নাবিলা ইসলাম রাজিতা প্রশ্নপত্রের ১৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর ভুল দেওয়ার পরও তাদের ওই প্রশ্নের বিপরীতে পূর্ণমান ৪ নম্বর করে দেওয়া হয়। উপরিউক্ত ৮ পরীক্ষার্থী ৪ নম্বর করে কম পেলে তাদের প্রাপ্ত নম্বর বাদীর মেয়ের চেয়ে কম হয়। এরপরও বাদীর মেয়ে সৈয়দা তাসনিয়া বিনতে আবদুল্লাহকে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়।
রায়ে সৈয়দা তাসনিয়া বিনতে আবদুল্লাহকে ২০১৫ সালে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির প্রভাতি শাখার ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ঘোষণা করেন আদালত। একই সঙ্গে সৈয়দা তাসনিয়া বিনতে আবদুল্লাহ বর্তমানে যে শ্রেণিতে অধ্যয়নরত তাকে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সেই শ্রেণিতে (অষ্টম) ভর্তি করার জন্য ভর্তি কমিটিকে নির্দেশ দেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বাদী অ্যাডভোকেট এসএম আবদুল্লাহ বলেন, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ন্যায় বিচার পেয়েছেন। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীকে অনুত্তীর্ণ দেখিয়ে আর যাতে কোন শিক্ষার্থীকে বঞ্চিত করা না হয়। ভর্তি অনিয়মের কারণে আর যাতে কোন মায়ের বা শিক্ষার্থীর চোখে অশ্রু না ঝড়ে এই রায় যেন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।
