টানা তিন দিন ২ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ০১:২৭ এএম

দেশে নতুন করোনা রোগী শনাক্ত দীর্ঘদিন স্থিতিশীল অবস্থায় থাকার পর সম্প্রতি আবার বাড়ছে। প্রায় আড়াই মাস ধরে দৈনিক দুই হাজারের কম করে রোগী শনাক্তের পর গত সোমবার হঠাৎ করেই রোগী শনাক্ত দুই হাজার ছাড়ায়। এরপর থেকে তিন দিন টানা দুই সহস্রাধিক করে রোগী শনাক্ত হয়েছে।

গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ হাজার ১১১ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তবে আগের দুদিন ১৪ শতাংশের কাছাকাছি হারে রোগী শনাক্ত হলেও গতকাল তা কমেছে। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার পরীক্ষায় ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে।এদিকে গত মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হঠাৎ দ্বিগুণ হওয়ার পর গতকাল তা কমেছে। এদিন ২১ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। এ নিয়ে চার দিনের তিন দিনই ২১ জন করে এবং এক দিন ৩৯ রোগীর মৃত্যু হলো। শেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ১৩ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা এবং ১৯ জনের বয়স পঞ্চাশোর্ধ।

গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ২৫৬তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশে ১১৭টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা চলমান। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১৫ হাজার ৫৯৮টি নমুনা সংগৃহীত হয়। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয় ১৬ হাজার ৪৬৯টি। এসব পরীক্ষায় ২ হাজার ১১১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ২১ রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৮৯৩ রোগী সুস্থ হয়েছে।

এতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত ২৫ লাখ ৮৯ হাজার ৪২১টি নমুনা পরীক্ষায় ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৬ হাজার ২৭৫ এবং সুস্থ হয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৮ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৩ ও সুস্থতার হার ৮০ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৪ ও নারী ৭ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৩, চট্টগ্রামে ৩, খুলনায় ২ এবং রাজশাহী, বরিশাল ও রংপুরে ১ জন করে মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১৩, ৫১-৬০ বছরের ৬, ৩১-৪০ বছরের ছিল ১ জন এবং ১০ বছরের নিচে শিশু ছিল একটি। ২১ জনের সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৪ হাজার ৮২৭ ও নারী ১ হাজার ৪৪৮ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ৯২ ও নারী ২৩ দশমিক ০৮ ভাগ। বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৯৬ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ২২৬, খুলনায় ৪৮৪, রাজশাহীতে ৩৮৩, রংপুরে ২৮৭, সিলেটে ২৫৯, বরিশালে ২১০ ও ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১৩০ জন মারা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬৬ রোগীকে আইসোলেশনে ও ১ হাজার ২২৩ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১২ হাজার ১৯৯ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৯ হাজার ৩৯৯ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হটলাইনগুলোতে ৪৩ হাজার ৭১৬টি কল এসেছে। সারা দেশে কভিড হাসপাতালগুলোতে ১১ হাজার ৪৫৯টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৬৭৯টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৫৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি ছিল ২৬৮টি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত