অধিনায়কত্ব কি আসলেই চাপ তামিম ইকবালের জন্য? মার্চে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার ওয়ানডে অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর তামিম পেয়েছেন ওয়ানডের নেতৃত্ব। করোনাভাইরাসের কারণে অবশ্য এরপর আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটই খেলেনি বাংলাদেশ। কিন্তু এরপরও নেতৃত্ব তামিমের জন্য চাপ, এমন শোনা যায় বা অনেকেই বলে থাকেন। তামিম বলছেন, বিষয়টি পুরোটাই সাংবাদিকদের বানানো।
বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ সামনে রেখে শনিবার থেকে অনুশীলন শুরু করেছে দলগুলো। ফরচুন বরিশালের অনুশীলনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন দলটির অধিনায়ক তামিম।
সেখানেই অধিনায়কত্ব চাপ কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তামিম বলেন, ‘অধিনায়কত্বের চাপ… আমি তো এখনো পর্যন্ত ওই রকম কোনো চাপের ম্যাচই খেলিনি! প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট হতে হবে তো… অধিনায়কত্বের চাপ এটা আসলে আপনাদের (সাংবাদিকদের) বানানো। আমি এখনো কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলিনি (দায়িত্ব পাওয়ার পর)।’
ওয়ানডে ফরম্যাটে স্থায়ীভাবে নেতৃত্ব পাওয়ার আগে গেল বছর শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন তামিম। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতেও ব্যর্থ ছিলেন তামিম। কদিন আগে প্রেসিডেন্টস কাপেও তার দল ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়।
তাই স্থায়ীভাবে নেতৃত্ব পাওয়ার পর ওয়ানডেতে মাঠে নামার সুযোগ না হলেও নেতৃত্ব চাপ কিনা, এমন প্রশ্ন তামিমকে শোনতে হচ্ছে। তামিম বলছেন, ‘আমি যেদিন অধিনায়কত্ব পেয়েছি, ওই দিনই বলেছি যে, আপনারা বিচার করবেন ৬ মাস বা ১ বছর পর। পৃথিবীর যত বড় অথবা ছোট নেতাই হোক, দুই ম্যাচ-তিন ম্যাচ পর আপনারা (সাংবাদিকরা) শুরু করে দেন ক্যাপ্টেন্সির চাপ... এটা শুধু আমার ব্যাপার নয়, যে কারও ক্ষেত্রেই।’
‘একটা বাচ্চা হাঁটতে কিন্তু ৯ মাস সময় নেয়… একদিনে না হাঁটলে তো আপনি বলতে পারেন না যে সে হাঁটতে পারে না। সময় লাগবেই। অধিনায়কত্ব আমার খেলায় কতটা প্রভাব ফেলছে, সেটা অন্তত ২০ ম্যাচ পর বিচার করবেন। কিংবা ১০-১৫ ম্যাচ পর। দুই-তিন ম্যাচ পর সেটা করতে পারেন না।’
এমনিতে অবশ্য অধিনায়কত্ব নিয়ে বাড়তি আবেগ কখনোই ছিল না তামিমের। এদিন সেটি আরেকবার মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘এটা অনেকবারই বলেছি। এটা আমি ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখি নি, এই দেশের অধিনায়কত্ব করার। এখন সুযোগ এসেছে আমার কাছে। চেষ্টা করব পুরোপুরিভাবে করতে। ভালো হবে খারাপ হবে সেটা সময় বলবে।’
