সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের শেরখালি উকিলপাড়ার সেই জঙ্গি আস্তানার বাড়িটি ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফলে এলাকার লোকজন প্রয়োজন ছাড়া ওই পথে চলাচল করছে না। এতে ওই এলাকা ভুতুড়ে পল্লিতে পরিণত হয়েছে।
শনিবার দুপুর পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ র্যাব-১২ এর একটি দল বাড়িটি পাহারায় ছিল। দুপুরের পর উপরের নির্দেশে তারা সেখান থেকে প্রস্থান করে। অপরদিকে এদিন দুপুরে ওই আস্তানা থেকে আটক ৪ জেএমবিকে সিরাজগঞ্জ র্যাব-১২ শাহজাদপুর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ র্যাব-১২ এর ডিএডি আনোয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় সন্ত্রাস,অবৈধ আগ্নেয় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে ৩টি পৃথক মামলা দায়ের করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন,শুক্রবার শাহজাদপুর উপজেলার পৌরসভার শেরখালি উকিলপাড়ার জঙ্গি আস্তানা থেকে আটক জেএমবির পাবনা-সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক শাখার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কিরণ ওরফে শামীম ওরফে হামীম (২২),নাঈমুল ইসলাম (২১), দিনাজপুরের আতিউর রহমান ওরফে কলম সৈনিক (২২) ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলার আমিনুল ইসলাম শান্ত (২০)। এদের এ দিন সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে পুলিশ ও র্যাবের কড়া প্রহরায় সিরাজগঞ্জ জেলহাজতে পাঠানো হয়।
এদিকে আটক জঙ্গিদের ২ জন প্রকৃত নাম গোপন করে সেলিম ও নাঈম নাম ধারণ করে পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার আল-হেরা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র পরিচয় দিয়ে ওই বাড়িটি ভাড়া নেয় বলে জানান, বাড়িওয়ালার আত্মীয় আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এদিকে, শনিবার দুপুরে শেরখালি উকিলপাড়ার ওই বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটি র্যাবের কয়েকজন পাহারা দিচ্ছে। বাড়িটির ভেতরে যেতে চাইলে তারা বাধা দিয়ে বলেন, উপরের নির্দেশ ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া সম্ভব না। টিনশেড ছাপড়া একতলা ভবনের বাড়িটির বারান্দায় মূলত কাপড় দিয়ে ঘরের ভেতরের সবকিছু মানুষের দৃষ্টি থেকে আড়াল করে রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া নানা গাছগাছালিতে আবৃত থাকায় বাড়িটি সহজে মানুষের নজরে আসে না। বাইরে থেকে বাড়িটি জনমানব শূন্য নোংরা ও আবর্জনায় ভরা বলে মনে হয়। ফলে এদিকে কারও নজর পড়েনি।
জঙ্গি আস্তানা গড়ে ওঠা এ বাড়ির মালিক শামছুল হক রাজা। তিনি জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী। চাকরিস্থল বগুড়া হওয়ায় সেখানেই বসবাস করেন। তার ভায়রা দ্বাবারিয়া মহল্লার আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বাড়িটির দেখাশোনা করেন।
তিনি জানান, চলতি মাসের ২ তারিখে পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার খালেকুজ্জামান নামের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নাঈম ও সেলিমকে নিয়ে বাড়ি ভাড়ার জন্য তার কাছে আসেন। তিনি নাঈমকে ছেলে ও সেলিমকে তার ভাতিজা পরিচয় দিয়ে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিয়ে মাসিক ২ হাজার টাকায় বাড়িটি ভাড়া নেন। ওই শিক্ষকের জাতীয় পরিচয়পত্রের একটি কপি র্যাবকে দেওয়া হয়েছে। এর আগে বাড়িটি শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের বনগ্রামের হাবিবুর রহমান তার মেয়ে ও জামাদার জন্য ভাড়া নেয়। ওই দম্পতি ২ মাস থাকার পর চলে যায়।
জঙ্গি আস্তানা গড়ে ওঠা বাড়িটির ১০০ গজ পূর্বে ফজলুল করিম কিরাতুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও বাইতুস শরিফ জামে মসজিদ রয়েছে। ওই মাদ্রাসার সুপার ও মসজিদের ইমাম হাফেজ আশরাফ আলী জানান, তিনি কখনোই ওই জঙ্গিদের রাস্তা-ঘাটে চলাফেরা বা মসজিদে নামাজ পরতে দেখেননি।
জঙ্গি আস্তানার ওই বাড়ির পাশের ভবনের মালিক নাঈম হোসেন জানান, এলাকায় জঙ্গিদের আস্তানা গড়ে ওঠার বিষয় তার একেবারেই কিছু জানা নেই। তিনি বিষয়টি টেরও পাননি।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, র্যাব বাদী হয়ে আটক জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী, অস্ত্র আইন ও বিস্ফোরক আইনে ৩টি পৃথক মামলা দায়ের করেছেন। আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে, জঙ্গিদের আটক করা হলেও শোরখালি উকিলপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফলে ওই পথে প্রয়োজন ছাড়া কাউকে চলতে দেখা যাচ্ছে না।
