সাত বছরেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি তিন মাসের জন্য গঠিত চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকায় বাড়ছে কোন্দল ও গ্রুপিং। ১০১ সদস্যের নগর যুবলীগের এই কমিটির পাঁচ আহ্বায়ক এখন দুই ভাগে বিভক্ত। এরমধ্যে চার যুগ্ম আহ্বায়ক নিয়ে একটি বলয়, আরেকটি বলয় শুধু আহ্বায়কের। দিন যতই গড়াচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ এই কমিটির কোন্দল ও গ্রুপিং ততই বাড়ছে। এই কারণে সম্প্রতি গঠিত কেন্দ্রীয় যুবলীগের কমিটিতে নগরে উল্লেখযোগ্য কারোই ঠাঁই হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির অনেকে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে যাওয়ায় যুবলীগের কর্মকান্ডে সময় দিতে পারছেন না। ফলে স্থানীয় যুবলীগের কর্মকা- স্থবির হয়ে পড়েছে। বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি গত সাত বছরে নগরে ১০টি ওয়ার্ড কমিটি ও জাতীয় দিবসে ফুল দেওয়া ছাড়া আর তেমন কোনো কর্মকান্ড করতে পারেনি।
এ প্রসঙ্গে নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু দেশ রূপান্তরকে বলেন, সত্যি কথা বলতে কি আমার বয়স ৫০ পেরিয়েছে। এখন আমার আওয়ামী লীগ করার সময়। কিন্তু কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে আছি বলেই পার্টি করে যাচ্ছি। আমিও চাই নগর যুবলীগের নতুন কমিটি হোক। বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটি অবহিত আছে।
সংগঠনটির এক সূত্র জানায়, গত ৫ নভেম্বর দারুল ফজল মার্কেটস্থ কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজনের এজেন্ডা নিয়ে নগর যুবলীগের সভা আহ্বান করা হয়েছিল। সভায় নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু উপস্থিত থাকলেও কমিটির অন্য চার যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ, দেলোয়ার হোসেন খোকা, দিদারুল আলম দিদার ও মাহবুবুল হক সুমন আসেননি। এর আগে শেখ রাসেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠান নিয়েও দুই গ্রুপের মধ্যে কোন্দলের বিষয়টি উঠে আসে।
গত ১১ নভেম্বর বিকেলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মহিউদ্দিন বাচ্চু ও তার অনুসারীদের উদ্যোগে নগরীর কাজিরদেউড়িস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এবং বাকি চার যুগ্ম আহ্বায়ক ও তাদের অনুসারীদের নিয়ে নগরীর স্টেশনরোডস্থ মোটেল সৈকতে পৃথকভাবে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে যুবলীগের সাবেক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের এ রকম গ্রুপিংয়ের কারণে অনেক নেতাকর্মী নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন।
এ প্রসঙ্গে নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা চার যুগ্ম আহ্বায়ক বারবার তাকে (মহিউদ্দিন বাচ্চু) সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকান্ড না করতে বলেছি। ব্যক্তিগতভাবেও বলেছি। কিন্তু কথা না শুনে গত এক বছর ধরে স্বেচ্ছাচারিতাই করেছেন। তাই আমরা আলাদাভাবেই সংগঠনকে এগিয়ে নিতে কর্মকান্ড চালাচ্ছি। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় শিগগিরই নগর যুবলীগের নতুন কমিটি হবে।
তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, কী অভিযোগ সেটা তো তারা স্পষ্ট করছে না। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটা ফোরামে আলোচনা হবে। কিন্তু চার যুগ্ম আহ্বায়ক কেন বিরোধ করছে, সেটা আমার বোধগম্য নয়। সংগঠন চলবে সংগঠনের ধারায়।
২০১৩ সালের ১৪ জুলাই কেন্দ্র থেকে মহিউদ্দিন বাচ্চুকে আহ্বায়ক ও ফরিদ মাহমুদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১০১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় যুবলীগ।
