দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ায় বৈদেশিক সহায়তায় অনুদানের অঙ্ক ন্যূনতম পর্যায় অর্থাৎ ৩ শতাংশে নেমে এসেছে বলে মন্ত্রিসভাকে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে বৈদেশিক সহায়তা নিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে বলেন, ১৯৭১-৭২ সালে বৈদেশিক সহায়তার মধ্যে অনুদান ছিল সর্বোচ্চ ৮৬ শতাংশ। ঋণ ছিল ৬ থেকে ৮ শতাংশ। ২০০৯-১০ অর্থবছর অনুদান ছিল ৩০ শতাংশের মতো, ঋণ প্রায় ৭০ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছর অনুদান ছিল সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের মতো, আর ৯৫ শতাংশই ছিল ঋণ।
‘২০১৯-২০ অর্থবছরে অনুদান আরও কমে গেছে, ২-৩ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। ৯৭ শতাংশই আসছে ঋণ হিসেবে। আমরা আর দানের ওপর নির্ভর করছি না। আমরা আমাদের নিজস্ব দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল।’ তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, আমরা ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো দিনই ডিফল্টার হইনি, এটা বড় সাফল্য।’ মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর বৈদেশিক সহায়তা ছাড় হয়েছিল ৭৪৮ মিলিয়ন ডলার, তখন জিডিপির ৩০ দশমিক ৪৭ শতাংশ ছিল ঋণের পরিমাণ। ২০১৯-২০ অর্থবছর বৈদেশিক সহায়তা ছিল ৭ হাজার ১২১ মিলিয়ন ডলার, তা ছিল জিডিপির ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ‘এর মধ্যে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ অনেক বেড়েছে। তাই এত টাকা বাড়ার পরও জিডিপির সঙ্গে এর অনুপাতটা অনেক কমে এসেছে’Ñ বলেন খন্দকার আনোয়ারুল। তিনি আরও বলেন, ‘শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের অনুদান ৪৪ হাজার ২৩ মিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ।’ ঋণের মধ্যে ৩৭ শতাংশ বিশ্বব্যাংকের, ২৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ এডিবির, ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ জাইকার, ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ চীনের, ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ রাশিয়ার, ১ দশমিক ৩ শতাংশ ভারতের এবং অন্যান্য ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। ১৯৮৯-৯০ অর্থবছর এডিপি ৫ হাজার ১০৩ কোটি টাকা ছিল জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এর মধ্যে বৈদেশিক সাহায্য ছিল ৩ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। এর মানে এডিপির ৬৩ শতাংশ ছিল বৈদেশিক সহায়তা। ‘২০০৯-১০ অর্থবছর এডিপির বরাদ্দ ছিল ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক সহায়তা ছিল ১১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এডিপিতে ফরেন এইডের কন্ট্রিবিউশন ছিল ৩৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ।’ মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের এডিপি হয়ে গেছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬২০ কোটি টাকা, বৈদেশিক সাহায্য আসছে ৫১ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। ‘বৈদেশিক সাহায্য বেড়েছে, কিন্তু পার্সেন্টেজ নেমে এসেছে ২৯ দশমিক ২৫-এ। আমাদের নিজস্ব বিনিয়োগ এত বেড়ে গেছে যে, বাইরের লোন এলেও এটা শতাংশের হারে অনেক নিচে।’ ‘আমাদের ঝুঁকি নেই। বৈদেশিক ঋণ যখন জিডিপির ৪০ শতাংশ বা এর বেশি হয়ে যায় তখন ঝুঁকি থাকে। আমাদের জিডিপির তুলনায় বৈদেশিক ঋণ হলো ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ’Ñ বলেন তিনি।
