জেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা ও মুলাদী উপজেলার। তবে মুলাদীর একাংশের সঙ্গে থাকলেও একেবারেই বিচ্ছিন্ন মেহেন্দিগঞ্জ। আর এ কারণে আগে থেকেই ‘বিচ্ছিন্ন জনপদ’ হিসেবে পরিচিত উপজেলাটি। অন্যদিকে মুলাদী-হিজলা রুট হয়ে মেহেন্দিগঞ্জবাসীর জেলা সদরে যাতায়াতের সুযোগ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে তাদের। পাশাপাশি হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জের বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন-গ্রামও বিচ্ছিন্নই থেকে যাচ্ছে। এতে সঠিক সময়ে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণসহ নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সেসব এলাকার মানুষ। পিছিয়ে থাকছে উচ্চশিক্ষার সুযোগ লাভ থেকেও। তাই সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ওইসব এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদে আড়িয়াল খাঁ নদে সেতু নির্মাণ। আর এই সেতু নির্মাণেই সব দুর্ভোগ দূর হবে বলে অভিমত ওই তিন উপজেলার ভুক্তভোগীদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বরিশাল সদর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে শায়েস্তাবাদ আড়িয়াল খাঁ নদ। প্রতিদিন খেয়া পার হয়ে বরিশাল শহরে আসছে হাজার হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা এবং মুলাদী উপজেলার বাসিন্দা। এর সঙ্গে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের একাংশের বাসিন্দাও রয়েছেন। প্রতিদিন এই খেয়াঘাটে এসে দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের। সন্ধ্যার পর জেলা সদরে আসা-যাওয়া করতে পারেন না তারা।
স্থানীয় চুরামন খেয়াঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. মোস্তফা বলেন, ‘সদর উপজেলার বাসিন্দা হয়েও বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি। সন্ধ্যার পর আর কোনোভাবে জেলা সদরে আসা সম্ভব হয় না। একটি ব্রিজ না থাকার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানালেও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেই।’
বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ‘শায়েস্তাবাদে একটি সেতু নির্মাণ হলে মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, কাজিরহাট থানাসহ মুলাদী উপজেলার একাংশের মানুষের বিভাগীয় সদরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। এর আগেও আমরা একটি উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। বরিশাল সদর আসনের সাংসদ এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামিমকে নিয়ে এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামিম বলেন, ‘সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদে সেতুর দাবি আগে থাকলেও আমার জানা ছিল না। ওই এলাকা পরিদর্শন করে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’
